মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।  বোমা তৈরিতে বিপত্তি, উড়ল ঘরের টিন ! অবশেষে আটক অণ্ডকোষ হারা মিজান চিকিৎসাধীন। সিরাজদিখানে ‘বোরহান-আনোয়ারা প্রবীণ নিবাস’ পরিদর্শনে ইউএনও রুম্পা ঘোষ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ আরসা সদস্য গ্রে প্তা র ছয় দফা দাবি আদায়ে লং মার্চ কক্সবাজার থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের পথে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী লীনা পারভীনের উঠান বৈঠক উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি সত্যের পক্ষে কলমঃ- সাংবাদিকের বন্ধু সত্য, শত্রুর তালিকা দীর্ঘ যাদবপুর ভুবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, অভিভাবক সমাবেশ

গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর:

গাজীপুর জেলা খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ফাইলের কাজ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে তিনি অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, চাহিদামতো টাকা না দিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফাইল দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। আর নির্ধারিত অর্থ প্রদান করা হলে দ্রুত ফাইলের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।হাজার টাকার নোট ছাড়া ফাইলের কাজ হয় না!

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খাদ্য কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সাধারণ কাজ কিংবা ফাইল ছাড় করানোর ক্ষেত্রে অফিস সহকারী আসাদ মিয়াকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। তাদের দাবি, বিশেষ করে হাজার টাকার নোট ছাড়া ফাইলের কাজ শেষ করতে অনীহা দেখানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চাহিদামতো টাকা পাওয়ার পরই দ্রুত ফাইলের কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইলপত্রে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে কাজ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে সেই জটিলতা দ্রুত সমাধান করা হয়। ভিডিওতে ভুক্তভোগীর কাজটি একটু দ্রুত করে দেওয়ার অনুরোধ

জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা পত্রিকার কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিডিওটিতে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন রয়েছে।

ভিডিওতে এক ভুক্তভোগীকে আমার কাজটি একটু দ্রুত করে দিয়েন—এমন অনুরোধ করতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, সময়, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা পত্রিকার পক্ষ থেকে মোঃ আসাদ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়।

এ সময় অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদ মিয়া দাবি করেন, এটি আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত লেনদেন। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়—সরকারি কার্যালয়ে ব্যক্তিগত লেনদেন কেন এবং এর সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, আপনাদের যা কিছু করার আছে করতে পারেন, সমস্যা নেই।

আসাদের এই বক্তব্যের পর সরকারি কার্যালয়ে কথিত ব্যক্তিগত লেনদেনের বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে লেনদেনের প্রকৃতি ও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযোগ প্রকাশের পর সাংবাদিক পরিচয়ে চাপ দেওয়ার অভিযোগ

এদিকে এশিয়া বার্তা পত্রিকার কার্যালয়ে ভিডিওটি আসার পর অভিযোগটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে দাবি করেছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।

তাদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন এবং নিয়মিত ফোন করে হুমকিসূচক বক্তব্য দিচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে কারা তৎপর? কার স্বার্থে এই চাপ? অভিযোগের নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী মহল রয়েছে কি না—এ বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সরকারি দপ্তরে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।

তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ফাইল, নথিপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশে বাধা, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা কর্তৃপক্ষ।

তবে মোঃ আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

চলবে অনুসন্ধান…

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews