রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে আসলে কী ঘটছে অভিযোগের আড়ালে সত্যটা কী

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯৭ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | গাজীপুর

সাংবাদিকতা জনগণের কথা বলার, অনিয়ম তুলে ধরার এবং ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। কিন্তু এই পরিচয় যদি কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থ আদায়ের কাজে ব্যবহার করে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে প্রেস কার্ডটি কি সাংবাদিকতার পরিচয়, নাকি অপরাধ আড়াল করার ঢাল?

গাজীপুরে এমনই এক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানে নেমেছে আমাদের প্রতিবেদক দল। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে, যেগুলো সত্য হলে তা শুধু সাংবাদিকতার নীতিমালা নয়, বরং প্রচলিত আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, গাজীপুরের কয়েকটি শিল্পাঞ্চল, মহাসড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় রাতের বেলায় কিছু কথিত সংবাদকর্মীর চলাচল দেখা যায়। তাদের কারও গলায় প্রেস লেখা আইডি কার্ড, কারও হাতে ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন। পরিচয় দেওয়া হয় সাংবাদিক হিসেবে। এরপর কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কথা বলা, তথ্য সংগ্রহের নামে চাপ সৃষ্টি কিংবা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অর্থ দাবি করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, নিউজ করে দেওয়া হবে, প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে কিংবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে এ ধরনের ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ও নির্দিষ্ট ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ করা হচ্ছে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানেই।

কোনো সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী যদি সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন, তাহলে সেটি সাংবাদিকতার স্বাভাবিক কার্যক্রম নয়। বরং অভিযোগটি গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের বিষয়।

অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলো যাচাই করতে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কথোপকথনের রেকর্ড, মেসেজ, ভিডিও, টাকা লেনদেনের তথ্য, আইডি কার্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

প্রমাণ ছাড়া কাউকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে না—কিন্তু অভিযোগ থাকলে সেটিও অনুসন্ধানের বাইরে থাকবে না।

অনুসন্ধানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—যেসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন, তাদের প্রেস কার্ড কে দিয়েছে?

কোন পত্রিকা বা অনলাইন গণমাধ্যমের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে?

সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটি আদৌ নিবন্ধিত বা বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না?

কার্ডে থাকা প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সম্পাদক/প্রকাশকের তথ্য ও যোগাযোগের নম্বর সত্য কি না?

এসব তথ্য যাচাই করলেই অনেক অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগ নয়, কয়েকটি এলাকায় রাতের বেলায় কথিত সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে মাদকসেবনের আসর বসার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, নির্জন স্থান, পরিত্যক্ত ভবন কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্থানে রাতের বেলায় কয়েকজনের জমায়েত দেখা যায়। সেখানে মাদকসেবন হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এই অভিযোগের ক্ষেত্রেও স্থান, সময়, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য দিয়ে যাচাই করা জরুরি।

এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন:

কারা সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দিচ্ছে?

একটি আইডি কার্ডে যদি কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক, প্রকাশক বা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক—

  • ওই ব্যক্তিকে কি সত্যিই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?
  • তার পদ কী?
  • তার কর্মক্ষেত্র কোন এলাকা?
  • তিনি কি নিয়মিত সংবাদ প্রতিবেদন জমা দেন?
  • তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আগে এসেছে কি না?
  • প্রতিষ্ঠানটি কি তার কর্মকাণ্ডের দায় নিচ্ছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে কথিত সাংবাদিকতার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে কী চলছে, তা অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।

গাজীপুরে বহু সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করছেন, প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন করছেন এবং মানুষের সমস্যা তুলে ধরছেন।

কিন্তু কিছু ব্যক্তি যদি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ান, তাহলে তার দায় প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপরও এসে পড়ে।

ফলে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের উচিত নিজেদের পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করা।

গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—

১. সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত কয়েক বছরে কতটি অভিযোগ বা মামলা হয়েছে?

২. এসব অভিযোগে কারা অভিযুক্ত এবং কতজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

৩. সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কি না?

৪. মাদকসেবন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে কথিত সংবাদকর্মীদের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আছে কি না?

৫. ভুয়া বা অনুমোদনহীন পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় দিচ্ছে কি না—এ বিষয়ে কোনো নজরদারি রয়েছে কি না?

৬. সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এমন হয়রানির শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করবেন।

এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে কাউকে উদ্দেশ্য করে অপবাদ দেওয়া নয়; বরং সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটিই যাচাই করা আমাদের উদ্দেশ্য।

কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবি করে থাকেন, তাহলে তারিখ, সময়, স্থান, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, আইডি কার্ডের ছবি, কথোপকথনের রেকর্ড, মেসেজ, ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে তা সংরক্ষণ করা জরুরি।

প্রমাণসহ অভিযোগ সামনে এলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা সম্ভব।

সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের লাইসেন্স নয়। প্রেস কার্ড কোনো অপরাধের ঢালও নয়।

যদি কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সত্যিই চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়া উচিত।

একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম যেন ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

গাজীপুরে সাংবাদিকতার নামে আসলে কী ঘটছে অভিযোগের আড়ালে সত্যটা কী?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের অনুসন্ধান চলবে।

পরবর্তী পর্বে:
🔍 প্রেস কার্ডের উৎস কোথায়?
🔍 কারা নিয়োগ দিচ্ছে কথিত সংবাদকর্মীদের?
🔍 ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও প্রমাণ কী বলছে?
🔍 প্রশাসনের নথিতে এসব অভিযোগের কোনো তথ্য আছে কি?

চলবে অনুসন্ধান…

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews