
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মোঃ খাইরুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনটি বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা এবং নতুন প্রেরণার দিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, আত্মোৎসর্গ এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে, রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির আবির্ভাব ঘটে। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়।
শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাবিএনপির গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে।
একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়াকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা নানাভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন—প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাঁদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় বিএনপি তার রাজনৈতিক পথচলায় গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, আইনের শাসন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপি মনে করে, জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের মতামত, অধিকার ও প্রত্যাশাকে সম্মান করে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক, সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই রাজনৈতিক দায়িত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি আহ্বান—দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা, গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ধারণ করা এবং জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে আগামী দিনগুলোতেও বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং গণতন্ত্রকামী দেশবাসীকে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অগ্রযাত্রা সফল হোক।বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হোক।বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাক।ইনশাআল্লাহ।
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ খাইরুল ইসলাম
সদস্য, প্রচার উপ-কমিটি
বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন—১৯০, ঢাকা-১৭
তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয় গণতন্ত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি