
চকরিয়ায় মামলা চলমান জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টার অভিযোগ
সাব-রেজিস্ট্রারের পদক্ষেপে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
মোহাম্মদ আরিফ
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক সারদা মহাজনের পুকুর, বাড়ি, শ্মশান ও মন্দিরের ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মামলা চলমান ও নিষেধাজ্ঞাধীন বলে দাবি করা একটি বিতর্কিত জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের পদক্ষেপে ওই জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সারদা মহাজনের পুকুর ও বাড়ি, মন্দির এবং শ্মশানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিটি রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সাব-রেজিস্ট্রার জমিটি রেজিস্ট্রি না করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগীরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে এলাকায় উত্তেজনা কিংবা হিন্দু-মুসলিম সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত জমির কোনো ধরনের রেজিস্ট্রি বা হস্তান্তর না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চারজন ওয়ারিশের জমি জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে দুইজনের নামে দেখানো, জাল খতিয়ান সৃজন এবং পরবর্তীতে ওই জমি বিক্রির চেষ্টা করা হলে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, জেলা সাব-রেজিস্ট্রার, সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), সহকারী কমিশনার (ভূমি), চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিতর্কিত জমি নিয়ে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাতের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উভয় পক্ষকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনো কার্যক্রম না করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।