
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
ফেসবুকে কথিত ফেক আইডি সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং সাংবাদিকতার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক সারজিদ আহমেদ অপু মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সারজিদ আহমেদ অপু দৈনিক মুখপাত্র-এর বিশেষ প্রতিনিধি এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ঢাকা মহানগর কোর কমিটির তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত মোঃ জহিরুল ইসলামের পিতা মৃত দেলোয়ার হোসেন এবং মাতা নূরনেছা বেগম।
তার বর্তমান ঠিকানা ৪৮/এ, দক্ষিণ বেগুনবাড়ি শিল্প এলাকা, তেজগাঁও, ঢাকা এবং স্হায়ী ঠিকানা নরোত্তমপুর,৩ নাম্বর ওয়ার্ড, নোয়াখালী। অভিযোগে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৭১৫-৭০০৯৭১ উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগের অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সন্ধ্যার পর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে সাংবাদিক সারজিদ আহমেদ অপু অভিযুক্তকে ফোন করেন।বিষয়টি ছিল দৈনিক সরজমিন বার্তা পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আজিম মিয়াকে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে দুটি ফেসবুক ফেক আইডির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আইডিগুলো থেকে বিভিন্ন সময় আজিম মিয়াকে নিয়ে কুরুচিপুর্ণ পোস্ট, এআই-নির্মিত কনটেন্ট এবং আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পূর্বেই চকবাজার থানা ও ডিবি সাইবার ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়,গত ২৭ জুন সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে অভিযুক্তের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকের পরিচয় জানার পরও অভিযুক্ত অশালীন ভাষায় গালাগাল, অপমানজনক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন,দলটি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের পরিস্থিতি ভালো ছিল। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সম্পর্কেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ফোনালাপ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন অচেনা মোবাইল নাম্বার থেকে সাংবাদিক সারজিদ আহমেদ অপুকে একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয় বলেও লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই সারজিদ আহমেদ অপু মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জহিরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।