বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।  বোমা তৈরিতে বিপত্তি, উড়ল ঘরের টিন ! অবশেষে আটক অণ্ডকোষ হারা মিজান চিকিৎসাধীন। সিরাজদিখানে ‘বোরহান-আনোয়ারা প্রবীণ নিবাস’ পরিদর্শনে ইউএনও রুম্পা ঘোষ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ আরসা সদস্য গ্রে প্তা র ছয় দফা দাবি আদায়ে লং মার্চ কক্সবাজার থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের পথে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী লীনা পারভীনের উঠান বৈঠক উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি সত্যের পক্ষে কলমঃ- সাংবাদিকের বন্ধু সত্য, শত্রুর তালিকা দীর্ঘ

সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান আমিন বাজারে তক্ষকসহ ৫ পাচারকারী গ্রেফতার

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ উজ্জ্বল খান, স্টাফ রিপোর্টার 

ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন আমিন বাজার এলাকায় এক ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১টি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী তক্ষক উদ্ধারসহ ৫ জন আন্তর্জাতিক চক্রের তক্ষক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ। গত ০৪ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা ১৮:১৫ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমিন বাজার এলাকায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক ও বর্তমান পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব শামীমা পারভিন মহোদয়ের সরাসরি দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব সাইদুল ইসলাম এর দক্ষ নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মোঃ আঃ মুত্তালিবসহ ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম ও ফোর্স।

যেভাবে পরিচালিত হলো অভিযান

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে তক্ষক (Gecko) ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচারের উদ্দেশ্যে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির একটি বিশেষ দল আমিন বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। গত শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে জড়ো হলে ডিবি পুলিশ চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাদের হাতেনাতে আটক করে।

তল্লাশিকালে আটককৃতদের হেফাজত থেকে ১টি ধূসর রঙের জীবিত বন্যপ্রাণী তক্ষক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত তক্ষকটির দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে দেখা যায় এটি প্রায় ১৫ ইঞ্চি লম্বা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই প্রাণীটির পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃত ৫ তক্ষক ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলো:

১. মোঃ মঞ্জুরুল হোসেন (৩৮): পিতা-মৃত নাজির আহম্মেদ, মাতা-মোছাঃ সালেহা আক্তার। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: আসকোনা হাজী ক্যাম্প, থানা-দক্ষিণখান, জেলা-ডিএমপি ঢাকা।

২. মোঃ হযরত আলী রিপন (৩৯): পিতা-মৃত রহুল আমিন, মাতা-মোমেনা খাতুন। ঠিকানা: আসকোনা হাজী ক্যাম্প, থানা-দক্ষিণখান, জেলা-ডিএমপি ঢাকা।

৩. মোঃ আঃ রহিম (৪২): পিতা-মৃত নুর আলম, মাতা-শামসুন্নাহার। স্থায়ী ঠিকানা: শহিদ কুচিয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম।

৪. মোঃ রায়হান আহম্মেদ রনি (৩৮): পিতা-মোঃ রমজান আলী, মাতা-নাজমা বেগম। ঠিকানা: ৬৪/১ মোল্লারটেক, থানা-দক্ষিণখান, জেলা-ডিএমপি ঢাকা।

৫. মোঃ সাগর শেখ (৪০): পিতা-মৃত লিয়াকত শেখ, মাতা-হামিদা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা: ফুলবাড়ি, থানা-বটিয়াঘাটা, জেলা-খুলনা। বর্তমানে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যানের ৮ নং বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ৩ নম্বর আসামি মোঃ আঃ রহিমের বিরুদ্ধে এর আগেও সংশ্লিষ্ট থানায় আরও ১টি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে চড়া মূল্যে বিক্রির চক্রের সাথে জড়িত।

তক্ষক নিয়ে গুজব ও আইনি পদক্ষেপ

এলাকাবাসী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, তক্ষক নিয়ে সমাজে নানা ধরনের অন্ধবিশ্বাস ও অলৌকিক গুজব ছড়ানো রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন তক্ষক দিয়ে কোটি কোটি টাকার ওষুধ তৈরি হয়, আবার কেউ দাবি করেন এটি ঘরে রাখলে ভাগ্যবদল হয়। এই সব ভিত্তিহীন গুজবের সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং বন্য পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত ১৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ধূসর রঙের তক্ষকটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, ধৃত ৫ আসামির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর আসামিদের যথাযথ পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিবি উত্তর-এর কর্মকর্তারা।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন জানিয়েছেন, অপরাধ ও বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই কঠোর অবস্থান এবং বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের গুজব বা অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার সাথে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews