বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।  বোমা তৈরিতে বিপত্তি, উড়ল ঘরের টিন ! অবশেষে আটক অণ্ডকোষ হারা মিজান চিকিৎসাধীন। সিরাজদিখানে ‘বোরহান-আনোয়ারা প্রবীণ নিবাস’ পরিদর্শনে ইউএনও রুম্পা ঘোষ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ আরসা সদস্য গ্রে প্তা র ছয় দফা দাবি আদায়ে লং মার্চ কক্সবাজার থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের পথে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী লীনা পারভীনের উঠান বৈঠক উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি সত্যের পক্ষে কলমঃ- সাংবাদিকের বন্ধু সত্য, শত্রুর তালিকা দীর্ঘ

মাদারীপুরে টিসিবি’র গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই কোটি টাকার পণ্য ১০ লক্ষাধিক ক্ষতির দাবি

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে

উজ্জ্বল মন্ডল, মাদারীপুর:

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চরমুগরিয়া এলাকায় সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর একটি পণ্য মজুত রাখার গোডাউন ও এর আশপাশের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে গোডাউন ও তার আশপাশের বেশ কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে গোডাউনে মজুত রাখা টিসিবি’র বিপুল পরিমাণ চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টিসিবি ডিলার ও গোডাউন মালিক ইসমাইল মোল্লার প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে তাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ টাকারও অধিক। তবে স্থানীয়দের মতে, সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় পুরো চরমুগরিয়া বন্দর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই আগুনের গ্রাস: স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরবেলা যখন চারিদিকে ফজরের আজান শেষ হয়েছে, ঠিক তখনই চরমুগরিয়া বাজারের ওই টিসিবি গোডাউনের ভেতর থেকে হঠাৎ করেই কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ার সাথে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বাজারে থাকা নৈশপ্রহরী ও ফজরের নামাজ পড়ে ফেরা মুসল্লিরা প্রথম আগুন দেখতে পান। তারা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে বালতি ও পাম্পের পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। কিন্তু গোডাউনে ভোজ্য তেল ও প্লাস্টিকের বস্তা থাকায় আগুনের তীব্রতা অতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুন মুহূর্তেই পুরো গোডাউন এবং পার্শ্ববর্তী আরও ২ থেকে ৩টি আধা-পাকা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন।

ফায়ার সার্ভিসের দেড় ঘণ্টার নিরলস চেষ্টা: অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি বিশেষ ইউনিট দ্রুত গাড়ি ও আধুনিক সরঞ্জামাদিসহ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় উৎসুক জনতা ও ব্যবসায়ীদের সহায়তায় চারদিক থেকে একযোগে পানি ছিটানো শুরু করেন। গোডাউনের ভেতরের দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয় ফায়ার ফাইটারদের। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় নিরলস ও আপ্রাণ চেষ্টা চালানোর পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। তবে ততক্ষণে টিসিবি’র মূল গোডাউন ও পার্শ্ববর্তী ঘরগুলোতে মজুত থাকা কয়েক শ বস্তা চাল, ডাল, চিনি ও শত শত লিটার সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারের আহাজারি: ক্ষতিগ্রস্ত টিসিবি ডিলার ও গোডাউন মালিক ইসমাইল মোল্লা অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “ভোরে হঠাৎ খবর পাই গোডাউনে আগুন লেগেছে। এসে দেখি আমার সব শেষ। আসন্ন টিসিবি’র পণ্য বিতরণ কার্যক্রমের জন্য গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল, ডাল, ভোজ্য তেল ও চিনি মজুত করা ছিল। এগুলো সবই নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করার কথা ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার নিজের ও আশেপাশের ব্যবসায়ীদের মিলিয়ে অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকার নগদ ক্ষতি হয়েছে। সরকারি এই পণ্যের ক্ষতি আমি কীভাবে পূরণ করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের প্রাথমিক ধারণা: ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গোডাউনের ভেতরের বৈদ্যুতিক তারের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে গোডাউনে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক আর্থিক পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন: এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সকালের দিকেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব। তিনি পুড়ে যাওয়া গোডাউন ও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ডিলার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে ইউএনও ওয়াদিয়া শাবাব সাংবাদিকদের বলেন, “চরমুগরিয়ায় টিসিবি’র গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সরকারি স্বল্পমূল্যের খাদ্যসামগ্রীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত ও মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার পর থেকে চরমুগরিয়া এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক তথ্য জানতে প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দল এখনো মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews