
কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেলে লুকানো ১১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, পলাতক রাইডারকে খুঁজছে বিজিবি-পুলিশ
মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম
উপজেলা প্রতিনিধি টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেলের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি ও টেকনাফ মডেল থানার পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক রাইডারসহ সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।জানা যায়, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ এলাকায় অবস্থিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পার্সেলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানতে পারে বিজিবি। পরে অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বিজিবি এবং টেকনাফ মডেল থানার পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযান চলাকালে আনুমানিক সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্গো স্টোরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্লুটুথ স্পিকার হিসেবে ঘোষিত পার্সেলটি সন্দেহজনক মনে হলে সেটি খুলে দেখা হয়। এ সময় স্পিকারের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ অপসারণ করে অত্যন্ত সুকৌশলে কালো স্কচ টেপে মোড়ানো ৬টি প্যাকেটের মধ্যে লুকিয়ে রাখা সর্বমোট ১১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্সেলটি নারায়ণগঞ্জ থেকে টেকনাফে পাঠানো হয়েছিল। পরে ‘পণ্যটি সঠিক নয়’ উল্লেখ করে সেটি পুনরায় ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে কুরিয়ার সার্ভিসে জমা দেওয়া হয়। কোম্পানির তথ্যভাণ্ডার পর্যালোচনায় পার্সেল বহনকারী এক রাইডারের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পার্সেলটি জমা দেওয়ার পর তিনি দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করেন।জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।পলাতক আসামির নাম মোঃ জামাল। তাঁর পিতার নাম অজ্ঞাত। বাড়ি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে।এ বিষয়ে অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বলেন, “বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পাচার এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ দমনে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।”জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ও সংশ্লিষ্ট আলামত নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামি ও সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।