রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

অন্ধকারে মাদারীপুরের ৩২ কোটির নার্সিং কলেজ প্রকল্প, দায় নেবে কে ?

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

অন্ধকারে মাদারীপুরের ৩২ কোটির নার্সিং কলেজ প্রকল্প, দায় নেবে কে ?

উজ্জ্বল মন্ডল, মাদারীপুর

৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদারীপুরে নার্সিং কলেজ নির্মাণ প্রকল্প যেন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির অপূর্ণ প্রতীক। প্রকল্প ব্যয় ৮৮ শতাংশ পরিশোধিত তবু নির্ধারিত সময় পরবর্তী বাড়তি ৭৫৪ দিন অতিবাহিত হলেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। তদারকি বিহীন সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তাহীন কারনে পরিনত হয়েছে মাদকের আড্ডাখানায়।

পর্যালোচনায় জানা যায়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে “মাদারীপুর নার্সিং কলেজ” প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় রাজধানী মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া ঠিকানার ‘মেসার্স এমএনএইচসিএল’ ও ‘এইচএমএইচই’ নামে দুটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ মার্চ ২০২১ সালে শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড় দোয়ালী মৌজায় শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সময় দেয়া ছিল ২০২৪ সালের ২০ জুন।

কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষেও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে নির্মাণ কার্যক্রম। কাগজে কলমে উল্লেখ রয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৮ ভাগ সম্পূর্ণ দেখিয়ে প্রায় ২৯ কোটি টাকা বিল তুলে নেয় যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুসন্ধান রিপোর্ট ব্যতীত কখনোই সম্ভব নয়। এরপরই ২০২৪ সালে বিগত সরকার পতন হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসম্পূর্ণ রেখে লাপাত্তা হয়ে যায়। ফলে অদ্যাবধি কাজে কোন অগ্রগতি না থাকায় তাদের কার্যক্রম বাতিল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ওই ভবনের আশপাশ ঢেকে গেছে ঘাস, লতাপাতা, আগাছায়। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা ছিল যে ক্যাম্পাস সেখানে বিরাজ করছে ভৌতিক নীরবতা। উল্লেখযোগ্য ভাবে ভবনটির প্রায় কক্ষেই মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতেও দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার এই প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোন নিরাপত্তা কর্মী। ফলে ভবনটি বর্তমানে মাদকাসক্তদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এতে আশেপাশে বেড়েছে চুরি, ছিনতাইয়ের মত অপরাধের প্রবণতা।

এলাকাবাসীর মতে, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হলে দক্ষ নার্স তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো প্রতিষ্ঠানটি । কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতা অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটিকে।

বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, দ্রুত তদন্ত করে প্রকল্পের কাজ বন্ধের কারন অনুসন্ধান এবং অসম্পূর্ণ অবস্থায় বাড়তি বিল পরিশোধের কারন খোঁজা সহ নির্মাণ কাজ অদ্যাবধি শেষ না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রয়োজন বোধে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নার্সিং কলেজটি চালুর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এখন দেখার পালা— কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা প্রকল্প আসলেই কি ফিরে পাবে প্রাণ? মাদারীপুরবাসী আসলেই কি পাবে কাঙ্ক্ষিত সেই নার্সিং কলেজ যেখানে লাখো সন্তান সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠবে জাতির সেবক হিসেবে ?

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews