
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স কর্মকর্তা শাকিলার মাথার উপর তার ছায়া ? ই জিপি পদ্ধতির ফাঁক -ফোকর দেখিয়ে ব্যাপক দুর্নীতিতে মেতে উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো ।
মোঃ ইসরাফিল আজাদ
, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঠিকাদারগণ একদিকে যেমন বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন তেমনি সরকারি বিপুল পরিমান অর্থ ব্যক্তি বিশেষের পকেটে ঢুকছে ও সাধারণ রোগীরা উপযুক্ত পথ্য না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।এসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় স্থানীয় সংসদ সমদস্যদের খবরদারিতে চলতো। ফ্যসিস্টের পতনের পর তাদের সাঙ্গপাঙ্গরাই এখনও সেই পুরনো নিয়মেই এসব চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে দুর্নীতি আর অনিয়ম চলছে আগের পথ ধরেই।
সম্প্রতি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ই-জিপি অফিসের রশিটানাটানির জেরে সিকিউরিটির টাকা ফেরত পায়নি স্থানীয় ঠিকাদাররা। এ ব্যাপারে ঠিকাদারগন ই-জিপি অফিস(ঢাকা) যোগাযোগ করলে তারা বলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উক্ত কাজের কার্যাদেশ প্রদান করলেই টাকা ফেরত দেয়া হবে, অথচ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বলছে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে । কিন্তু সিকিউরিটির টাকা ফেরত না দিয়ে নানা রকম টালবাহানা করছে। উল্লেখ্য এ টেণ্ডারটি ছিল নানা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ভরা। এরা ই- জিপি অফিসের কোন নির্দেশনাই মানছেনা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা শাকিলা আকতার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের একটি অসম্পূর্ণ টেণ্ডারকে সম্পন্ন করে প্রতিযোগী ঠিকাদারদের ব্যাংক ড্রাফট আটকে রাখার এবং ই-জিপি অফিসকে প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে যে অনিয়মের স্বর্গরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তার অবসান চান ঠিকাদাররা।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিগত ৪০ বছর ধরে বাহিরের কোন ঠিকাদারই ঠিকাদারি করতে পারেনি। এ সময়ে উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজেদের মনোনীত লোক ছাড়া কেউ কাজ পায়নি। রাণিশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সেরও একই অবস্থা। ইতোপূর্বে এক টেণ্ডাররের সময় দরপত্র বাছাই কমিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি কাগজপত্র সঠিক পেয়ে সিণ্ডিকেটের বাইরের একজন ঠিকাদারের নাম সুপারিশ করায় পূর্বের সিণ্ডিকেট ঠিকাদার আদালতে মামলা করে মালামাল সরবরাহের টেণ্ডাররের কার্যক্রম স্থগিত করে নিজেই বিগত কয়েক বছর ধরে সরবরাহ করে আসছেন এ বিষয়ে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কামাল আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া গেলে কীভাবে নতুন টেণ্ডার করবো। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্পর্কেও রয়েছে ভয়াবহ অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দুদক সেখানে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির প্রমাণ পায়। তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেন।দুদকের অভিযান আর ব্যবস্থ্যা গ্রহন করা হচ্ছে এমন অজুহাতে এখন শুরু হয়েছে সময় ক্ষেপন, ফলে পরনো সিণ্ডিকেট ঠিকাদারই সরবরাহের কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলা ২৫০শয্যা হাসপাতালে চলছে ভাড়াকরা ঠিকাদার দিয়ে সরবরাহের কাজ।এ বিষয়ে বৃহত্তর দিলাজপুরের সিনিয়র বিজিবি ঠিকাদার মহসিন জানান জেলা হাসপাতাল ঠাকুরগাঁওয়ে দরপত্র ক্রয় ও দাখিলে এমন কিছু আইন সংযোজন করা হয়েছে যাতে করে ঠাকুরগাঁও , পঞ্চগড়, দিনাজপুরের কোন ঠিকাদারই এ টেণ্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারছেনা।
ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্য দপ্তরগুলোর এহেন অনিয়ম আর দুর্নীতি রোধ ও ক্রয় বিক্রয় কমিটিতে জেলা মেজিস্ট্র্যাট অথবা সেনা কর্মকর্তা দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে অন্যথায় সরকারি অর্থের এমন হরিলুট আটকানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারগন।