
চেয়ারম্যানের ২০ ও মেম্বারের ১৫ বছর পার, তবুও হয়নি ১ কিলোমিটার রাস্তা: চরম দুর্ভোগে, খারাংখালীর তে, প্রতি দিন যাওয়া আসা হাজার শিক্ষার্থী, ও জনগণ
মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি (টেকনাফ):
কেউ টানা ২০ বছর ধরে চেয়ারম্যানি করেছেন, আবার কেউ ১৫ বছর ধরে সামলেছেন মেম্বারের দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধিদের এমন দীর্ঘ মেয়াদের পরও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের একটি সামান্য রাস্তার ভাগ্য বদলায়নি। এক কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের এই জরাজীর্ণ রাস্তাটি নিয়ে এলাকাবাসীর আক্ষেপ আর হতাশার যেন শেষ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত খারাংখালী পূর্ব মহেশখালিয়া পাড়ার এই রাস্তাটি চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের চরম ভোগান্তি
এই ভাঙাচোরা ও বেহাল সড়ক দিয়েই প্রতিদিন বাহারুলুম দাখিল মাদ্রাসা-র প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ ছাত্র-ছাত্রী অত্যন্ত কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে হাঁটুসমান কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় যাতায়াত করা রীতিমতো এক যুদ্ধে পরিণত হয়। সামান্য এই রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা।
এলাকার ক্ষুব্ধ ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেই কবে থেকে শুনে আসছি রাস্তার টেন্ডার হয়েছে! কিন্তু বাস্তবে রাস্তার এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি, হয়নি কোনো পিচ ঢালাই।” বছরের পর বছর কেবল আশ্বাসের বাণী শুনেই সময় পার করছেন এলাকাবাসী। যুগের পর যুগ পার হলেও রাস্তাটি কেন হচ্ছে না—এই প্রশ্ন এখন খারাংখালী পূর্ব মহেশখালিয়া পাড়ার প্রতিটি মানুষের মুখে।
মাননীয় সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে ছেন।
বিগত দিনের জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা আর উদাসীনতায় ক্লান্ত হয়ে এবার এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা উখিয়া-টেকনাফ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী-র ওপর শেষ ভরসা রাখছেন।
জনস্বার্থে এবং এলাকার বৃহত্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে, উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের জন্য সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর একটাই চাওয়া:
”মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও এলাকাবাসীর কষ্টের কথা বিবেচনা করে এই রাস্তাটি যেন দ্রুত পাকা করা হয়।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অবহেলিত এই জনপদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—এবার যেন সত্যিই আলোর মুখ দেখে এই ১ কিলোমিটার রাস্তা।