
নিজস্ব সংবাদদাতা:
রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে আছেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সভাপতি দায়িত্বে থাকা ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী তথা সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপর চালিয়ে যাচ্ছেন ফ্যাসিবাদী স্টীম রোলার।তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি জুলাই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী।ফ্যাসিবাদকে অর্থায়ন,ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দূরবর্তী স্থানে বদলী,পদোন্নতি বঞ্চিতসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তার রয়েছে নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী। এদের মাধ্যমেই তিনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। প্রমোশন ও বদলী বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ অর্থ। এর নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা মতিঝিল কর্পোরেট শাখার মতো ব্রাঞ্চের ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ফ্যাসিবাদী এমডি মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের এপিএস শফিকুল ইসলাম (বর্তমানে এমডির পিএস), বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি মোঃ আশরাফুল আলম (চঞ্চল), এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধু পরিষদের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান টুটুল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চার্জশিট প্রাপ্ত আসামী রাশেদ, ওসমান গনি প্রমুখ। সাবেক এমডি মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন। দূর্নীতির দায়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
এই বাহিনী ইতোপূর্বে জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (জেবিএবি) নামের একটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে আশরাফুল আলম চঞ্চল ও ওসমান গনির নেতৃত্বে পিএস শফিক ও এপিএস টুটুলের সহায়তায় আশিকুর রহমান রানা, মাসুম আহমেদ বাবু, মোহাব্বাত বাবু, শাহাদাত হোসেন লিটনসহ আরো কয়েকজন মিলে জেবিএবির নেতা শাওন ও শাফিনের সাথে আগত নেতৃবৃন্দকে স্বয়ং এমডির সামনেই অপমান অপদস্থ ও হেনস্থা করে প্রধান কার্যালয় এমডিএস থেকে বের করে দেয়। পরে নীচে নামলে এরা আবারো হামলা চালায়। এতে এজিএম রফিকুল ইসলাম ও শাফিন আহত হয়। পরবর্তীতে এজিএম রফিকুল ইসলামকে যশোরে বদলী করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ভীত সন্ত্রস্ত এক কর্মকর্তা জানায় এমডি কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম প্রায়ই তার গুন্ডা বাহিনী নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে, বিভিন্ন বিভাগে মহরা দিয়ে বেড়ান। যা সাধারণ কর্মকর্তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করে।
আরো জানা যায়, এর আগেও ২০২৪ সালের পদন্নোতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল তার কাছে প্রোমোশনের আবেদন জানাতে গেলে ব্যাংকের কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে সেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে হয়রানি করেন ৪৪ জন কর্মকর্তাকে। এদের সবাইকে ব্যাখ্যা তলব করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৮ জনকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলী করেছেন। প্রোমোশন বঞ্চিত করা হয় ১২ জনকে। এর আগে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ২০২৫ এর মার্চ মাসের মধ্যে পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। এরা শুধুমাত্র সেই প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে এমডির কাছে আবেদন জানাতে গেলেও তাদের উপরে বিনা কারণে চড়াও হন।
সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবী, রূপালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ চেয়ারে বসা মানুষটির আসলে কাজ কি? দমন-পীড়ন নাকি ব্যাংকের সার্বিক উন্নয়ন? তারা ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যোগ্য নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ চায়।
রূপালী ব্যাংক জনগণের ব্যাংক। আর জনগণের ব্যাংকের মাথায় এমন একজন ব্যক্তি বসে আছেন, যাকে ঘিরে এখন একটার পর একটা প্রশ্ন উঠছে। আর্থিক ব্যর্থতার প্রশ্ন, রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্ন, প্রশাসনিক বৈষম্যের প্রশ্ন, বদলি বাণিজ্যের প্রশ্ন, আর সবচেয়ে বড় কথা, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা ধ্বংসের প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘যোগদানের পর থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার করেছেন। প্রমোশন বঞ্চিতসহ দূর-দূরান্তে বদলী করেছেন অনেককেই। ঠিক যেন ফ্যাসিষ্টের যোগ্য উত্তরসূরী। আর ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনেও তিনি ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
সম্প্রতি, জিয়া পরিষদ, রূপালী ব্যাংক পিএলসি ইউনিটের আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার, যাকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়েছে; সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদ, যাকে ময়মনসিংহে এবং সদস্যসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।
জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মোট ১১ জন কর্মকর্তার বদলির আদেশে অন্যদের অবমুক্তির (রিলিজ) সময়সীমা ১৮ জুন উল্লেখ করা হলেও, এই তিন নেতাকে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই আদেশে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ‘স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ’-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখায় বদলি করে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের নেতারা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করা হয়।