
(বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার ধুনট উপজেলার একটি কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে আবাসিক এক ছাত্রকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি করেন ওই ছাত্র। সে সারিয়াকান্দি উপজেলার কাশাহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং ধুনট দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসার ইরাজদাহম জামাতের আবাসিক শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বাছেত মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। লেখাপড়ার সুবিধার্থে ওই ছাত্র তার কক্ষে রাত যাপন করতো। অভিযোগ রয়েছে, একই কক্ষে অবস্থানের সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ছাত্রটিকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হলে তাকে ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাগুলো কাউকে না বলার জন্যও চাপ দেওয়া হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন মাদ্রাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে মৌখিকভাবে জানানো হলে শিক্ষকদের বৈঠকে আব্দুল বাছেতকে আবাসিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি দিনের বেলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যান। পরে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বাছেত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। তারাই ষড়যন্ত্র করে ছাত্রকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রকে দিয়ে শরীর টিপে নেওয়ার বিষয়টি জানার পর শিক্ষকদের বৈঠকে আব্দুল বাছেতকে আবাসিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন বিষয়টি সমাধান করা হয়েছিল। এখন আবার একটি পক্ষ এটিকে নতুনভাবে সামনে আনার চেষ্টা করছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুর রাজ্জাক আশিক ধুনট, বগুড়া