
গাজীপুর প্রতিনিধি
কারাগার হচ্ছে অপরাধীদের সংশোধনাগার। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আইনের আওতায় এনে অপরাধীকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনাই যেখানে জেলখানার মূল উদ্দেশ্য, (রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ) সেখানে গাজীপুর জেলা কারাগারে চলছে উল্টো চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর টাকা দিলেই মিলছে আরাম-আয়েশ, আর সেই সঙ্গে চলছে সংশোধনের নামে ভয়াবহ প্রহসন।
গোপন অনুসন্ধানে এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, একজন আসামির পরিবারের সদস্যরা যখন প্রিয়জনের সাথে দেখা করতে যান, তখন তাদের গুনতে হয় ৫০০ টাকা। টাকার বিনিময়েই শুধু দেখা করার সুযোগ মেলে, অন্যথায় পোহাতে হয় নানা হয়রানি।
একজন অপরাধীকে নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সেলে থাকার কথা থাকলেও, এখানে চিত্র ভিন্ন। অভিযোগ আছে, মাত্র ৫০০ টাকা দিলেই বদলে যাচ্ছে নিয়ম। সেল থেকে সরাসরি ওয়ার্ডে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন অসাধু কারারক্ষীরা। এতে অপরাধী শাস্তিভোগের বদলে কারাগারের ভেতরেই কাটাচ্ছেন নিশ্চিন্ত বিলাসিতা জীবন
একজন ভুক্তভোগী ক্যামেরার সামনে আসতে অনিচ্ছুক আমাদের জানান, গাজীপুর জেলখানায় যেন অপরাধীর কোনো বিচারই নেই। কিছু টাকা খরচ করতে পারলেই অপরাধীরা কারাগারের ভেতরে বাসাবাড়ির চেয়েও আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। কারারক্ষীদের একটি চক্রের মাধ্যমে বাইরে থেকে টাকা আনানো হচ্ছে এবং সেই টাকায় চলছে আনন্দ-উল্লাস।
প্রশ্ন উঠছে, যে অপরাধী টাকার জোরে শাস্তি থেকে মুক্তি পায় বা জেলখানায় আরামদায়ক জীবন কাটায়, সে অপরাধী আদৌ কি সংশোধন হচ্ছে? নাকি কারাগারটি অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আস্তানা ও বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে? এই ঘটনাগুলো কি কারা কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে সম্ভব? সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে গাজীপুর জেলা কারাগারে অসাধু কারারক্ষীদের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে তদন্ত করা হোক। কারাগারকে দুর্নীতিমুক্ত করে পুনরায় এর আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।