রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

প্রশাসনের নাকের ডগায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চোরাই তেলের রমরমা সিন্ডিকেট

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২২৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট ও আকাশচুম্বী দামের সুযোগ নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে উঠেছে চোরাই তেলের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দিনের আলোয়, প্রশাসনের নাকের ডগায় হরহামেশাই চলছে এই অবৈধ কারবার। মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী দোকানগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল, যা একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে ডেকে আনছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান থেকে কৌশলে তেল চুরি করে একটি চক্র। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, গাছতলায় বা ঝোপের আড়ালে ছোট ছোট খুপড়ি ঘর তৈরি করে অথবা খোলা আকাশের নিচেই ড্রামভর্তি তেল সাজিয়ে চলে এই ব্যবসা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা এই সিন্ডিকেটগুলো অত্যন্ত সংগঠিত। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অংকের মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেই তারা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মহাসড়কের পাশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও বেচাকেনা করায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত স্থানে দাহ্য পদার্থ মজুত করায় সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।অবৈধ দোকানগুলোর কারণে সড়কের পাশে যানবাহন থামিয়ে তেল নেওয়ার হিড়িক পড়ে, যা প্রায়ই যানজট সৃষ্টি করে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চোরাই পথে আসা এসব তেলের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভেজাল মিশ্রিত তেল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ চালকরা।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন পুলিশের টহল টিমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি চলাচল করে। অথচ চোখের সামনে চলা এই অবৈধ কারবার বন্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আমরা সবাই জানি এখানে কী হচ্ছে। কিন্তু কার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেব? যাদের দেখার কথা, তারাই তো নীরব দর্শক।

জ্বালানি তেলের এই অবৈধ সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সচেতন মহল মনে করছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হবে, যা ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কি না, নাকি এই মরণফাঁদ এভাবেই চলতে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews