
দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা
জামালপুরে হাসপাতালের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের রুকনিয়াত (সদস্যপদ) স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২৪ জুন জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৫ জুন জেলা নেতাদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জেলা সেক্রেটারির স্বাক্ষরযুক্ত বার্তায় পাঁচজনের রুকনিয়াত স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে অনিবার্য কারণবশত তাদের রুকনিয়াত স্থগিত করা হয়েছে।
রুকনিয়াত স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও জামালপুর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সুলতান মাহমুদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জামালপুর জেলা সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আছিমুল ইসলাম, রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান, আল মাসুম এবং মো. আজিজুর রহমান।
জানা গেছে, শহরের শেখের ভিটা এলাকায় অবস্থিত এভার গ্রীন লাইফ হাসপাতালের পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে হাসপাতালের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা জামায়াত একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের জন্য সতর্ক করলেও পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধ না করায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামালপুর জেলা শাখার আমিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা জানার বা নিউজ করার প্রয়োজন নেই, আমরা বিষয়টি দেখছি।”
এক পর্যায়ে সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা জানতে চান, ভবিষ্যতে তাদের রুকনিয়াত পুনর্বহাল করা হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তাদের রুকনিয়াত আবার ফেরত দেওয়া হবে।”
পরে অভিযোগে উল্লেখিত প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনে নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তথ্য ও ছবি: মো:আরাফাত মিয়া জামালপুর জেলা প্রতিনিধি।।