মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জামালপুরে ঐতিহাসিক রায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান হেমায়েতপুর থেকে ৬০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফা গ্রেফতার কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া, পুরোনো বিতর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা উৎসবমুখর পরিবেশে ধামরাইয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত আলোচনা সভা ও ঋণ বিতরণ ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের স্বস্তিতে পৌরসভার ৫টি সিলিং ফ্যান প্রদান টানা বর্ষণে টেকনাফের ওয়াব্রাং গ্রাম প্লাবিত পানিবন্দি শতাধিক পরিবার, চরম দুর্ভোগ সুবিপ্রবি ও ভিসি নিয়ে অপতথ্য, গুজব ও অপপ্রচারের সাথে ভিন্নমত কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধস উখিয়া ও শহরে নারী-শিশুসহ নিহত ৯, বাড়ছে ঝুঁকি ধামরাই থানার কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে নকল মোড়কে ভেজাল খাদ্যপণ্য, আটক ২ জব্দ সব

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের স্বস্তিতে পৌরসভার ৫টি সিলিং ফ্যান প্রদান

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ সুজন আহমেদ ক্রাইম রিপোর্টার 

তীব্র তাপদাহ এবং গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে এক অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও সাধারণ রোগীদের ওয়ার্ডে আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি দিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি নতুন সিলিং ফ্যান প্রদান করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের ফলে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী এবং তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রবিবার (৫ জুলাই) ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফ্যানগুলো হস্তান্তর করা হয়। ভাঙ্গুড়া পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক জনাব মিজানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ মোছাঃ হালিমা খানমের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে সিলিং ফ্যানগুলো হস্তান্তর করেন।

চলতি মৌসুমের তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে এমনিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত। তার ওপর অসুস্থ শরীর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের কষ্ট যেন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডগুলোতে শয্যাশায়ী রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ফ্যান বা বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র গরমে তাদের অবস্থা ওসন্ন হয়ে উঠছিল। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে এই গরম আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সীমিত বাজেটের কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্যান দ্রুত মেরামত বা নতুন ফ্যান প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিষয়টি ভাঙ্গুড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে, তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং রোগীদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে নিজস্ব তহবিল থেকে উন্নত মানের পাঁচটি সিলিং ফ্যান বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন।

রবিবার দুপুরে সিলিং ফ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পৌরসভার প্রশাসক জনাব মিজানুর রহমান বলেন, “পৌরসভা কেবল রাস্তাঘাট বা ড্রেন নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়নই করে না, বরং নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা ও জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেও সম্পৃক্ত থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আমাদের এলাকার মানুষের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র। এখানে যারা ভর্তি থাকেন, তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে আমাদেরই প্রতিবেশী বা নাগরিক। তীব্র গরমে তারা যেন হাসপাতালে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে না পড়েন, সেই চিন্তা থেকেই আমরা এই সামান্য উপহার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতে হাসপাতালের যেকোনো প্রয়োজনে ভাঙ্গুড়া পৌরসভা সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

ফ্যানগুলো গ্রহণ করে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোছাঃ হালিমা খানম। তিনি বলেন, “হাসপাতালে রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই তীব্র গরমে ওয়ার্ডের পরিবেশ ঠান্ডা রাখা আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ভাঙ্গুড়া পৌরসভার প্রশাসক মহোদয় আমাদের এই সমস্যার কথা শুনে যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই পাঁচটি সিলিং ফ্যান আমাদের বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ডে যেখানে ফ্যানের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দ্রুত স্থাপন করা হবে। এতে চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাদের সেবা করতে আসা স্বজনরা অনেক বেশি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন। ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, ফ্যানগুলো পাওয়ার পরপরই হাসপাতালের টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ ও মহিলা সাধারণ ওয়ার্ড এবং শিশু ওয়ার্ডের যেসব কোণায় বাতাসের প্রবাহ কম ছিল, সেসব স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পৌরসভার এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, তাদের স্বজন এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন বলেন, এই গরমে হাসপাতালের ভেতরে থাকা কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। ফ্যান নষ্ট থাকায় বাতাস পাওয়া যেত না। এখন নতুন ফ্যান দেওয়ায় আমাদের মতো গরিব রোগীদের অনেক উপকার হলো।” স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, শুধু পৌরসভাই নয়, সমাজের বিত্তবান এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও যদি হাসপাতালের রোগীদের কল্যাণে এভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এই অঞ্চলের একটি মডেল হাসপাতালে পরিণত হবে। অনুষ্ঠানে হাসপাতাল ও পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews