
এম. এ. মান্নান, নওগাঁ
আমরা মানুষ গড়ার কারিগর, কিন্তু আজ আমরা নিজেরাই ভাঙনের মুখে।” বুকভরা দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জল নিয়ে এভাবেই নিজেদের কষ্টের কথা জানাচ্ছিলেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বিহীন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। শিক্ষকতাকে পেশা নয়, বরং ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা এই মানুষগুলো আজ ক্ষুধার যন্ত্রণায় পিষ্ট। মাসের পর মাস পার হলেও পকেটে জোটে না একটি টাকাও। পরিবারের মুখে দু-বেলা অন্ন তুলে দেওয়া যেখানে দায়, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ চালানো যেন আকাশকুসুম কল্পনা।
শিক্ষকদের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি: ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, তারা কোনো বিলাসিতা চান না; শুধু চান সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার। নওগাঁর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। অনেকেরই বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি।
এক শিক্ষকের আকুতি: আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষক হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে পারি না, আবার ঘরে সন্তানদের ক্ষুধার্থ মুখ সহ্য করতে পারি না। আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় কর্তৃপক্ষ মানবিক। আমাদের আর্তনাদ তাদের কানে পৌঁছালে হাজারো শিক্ষকের ঘরে আশার আলো জ্বলবে।
দ্রুত এমপিওভুক্তির মাধ্যমে এই অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।