বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জামালপুরে ঐতিহাসিক রায় গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান হেমায়েতপুর থেকে ৬০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফা গ্রেফতার কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া, পুরোনো বিতর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা উৎসবমুখর পরিবেশে ধামরাইয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত আলোচনা সভা ও ঋণ বিতরণ ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের স্বস্তিতে পৌরসভার ৫টি সিলিং ফ্যান প্রদান টানা বর্ষণে টেকনাফের ওয়াব্রাং গ্রাম প্লাবিত পানিবন্দি শতাধিক পরিবার, চরম দুর্ভোগ সুবিপ্রবি ও ভিসি নিয়ে অপতথ্য, গুজব ও অপপ্রচারের সাথে ভিন্নমত কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধস উখিয়া ও শহরে নারী-শিশুসহ নিহত ৯, বাড়ছে ঝুঁকি ধামরাই থানার কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে নকল মোড়কে ভেজাল খাদ্যপণ্য, আটক ২ জব্দ সব

মিছিলের শেষের ছেলেটাও কি পরিচয় পাবে না তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে লোহাগাড়ার ফয়সালের আবেগঘন খোলা চিঠি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, 

কথা ছিল মিছিলের শেষে থাকা ছেলেটাও রাজনৈতিক পরিচয় পাবে‌। কিন্তু আজ সুসময়ে এসেও সেই চিরচেনা অবহেলা আর উপেক্ষার শিকার হতে হচ্ছে দুঃসময়ের কাণ্ডারিদের।” — ঠিক এভাবেই নিজের বুকফাটা আর্তনাদ আর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ার প্রতিনিধি ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আরমান হোসেন ফয়সাল। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে লেখা তাঁর এই খোলা চিঠিটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যারা নিজেদের জীবন, যৌবন এবং সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন, আজ সুসময়ে এসে সেই ত্যাগী কর্মীদের উপেক্ষিত হওয়ার নির্মম বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে ফয়সালের এই লেখনীতে।

আরমান হোসেন ফয়সাল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “আমাদের অনেক সহযোদ্ধা রয়েছেন যারা বছরের পর বছর দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, দলের কঠিন দুঃসময়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। নিজেদের কষ্টে উপার্জিত পকেটের টাকা খরচ করে নেতাকর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে চাঙ্গা রেখেছেন। তাঁরা কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য রাজনীতি করেননি। শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে একটু সম্মান নিয়ে বাঁচতে চেয়েছেন।

তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সু সময়ে এসেও সেই ত্যাগী কর্মীরা আগের মতোই অবহেলিত রয়ে গেছেন। দল থেকে বিন্দু পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা বা মূল্যায়ন তাঁরা পাননি। উল্টো অনেক এমপি এবং মন্ত্রী দুঃসময়ে পাশে থাকা ত্যাগীদের বেমালুম ভুলে গেছেন। আজ সব জায়গায় টাকা ওয়ালা আত্মীয়-স্বজন আর ‘হাইব্রিড’ অনুপ্রবেশকারীদের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চিঠিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আরমান হোসেন ফয়সাল প্রশ্ন তোলেন, “এখনও পর্যন্ত ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে যুবদল ও ছাত্রদলের কোন কমিটি নেই কেন? অনেক জায়গায় তো জেলা-উপজেলায় পর্যন্ত কমিটি নেই! আর যেখানে যাদের কমিটি আছে, তাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা বা দায়বদ্ধতা নেই।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করা কঠিন হবে এবং দল এক চরম নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। যেখানে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে নতুন প্রজন্ম বা নতুন কেউ দলের দিকে আগ্রহ প্রকাশ করবে না। দুঃসময়ের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে তিনি যতটুকু উপলব্ধি করেছেন—বিগত দিনগুলো যতখানি কঠিন ছিল, ভবিষ্যৎ এর চেয়েও আরও অনেক বেশি কঠিন হবে। আর সেই কঠিন সময়ে হয়তো রাজপথে দাঁড়ানোর মতো কোনো কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বিগত জুলাই বিপ্লব এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের মধ্যকার এক বৈষম্যের চিত্রও এই চিঠিতে উঠে এসেছে। ফয়সাল বলেন, “আজ ভাবতেই অবাক লাগে, যখন জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা হয়, তখন ভোলার নুরে আলম কিংবা আব্দুর রহিমদের মতো বীরদের কথা কেউ তুলে ধরে না। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে কত নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন—তাদের কেউ মনে রাখে না। তাদের কথা কোনো কর্মসূচিতে বা প্রোগ্রামে আলোচনা করা হয় না।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবাই শুধু জুলাই নিয়ে ব্যস্ত। এই জুলাই জুলাই করতে গিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথ কাঁপানো ত্যাগীদের কেন ভুলে যাচ্ছেন আপনারা? লোহাগাড়ার এই প্রতিনিধির চিঠিটি মূলত দেশের প্রতিটি কোণায় থাকা লাখো কোটি নিঃস্বার্থ বিএনপি কর্মীর মনের প্রতিধ্বনি। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তৃণমূলের কর্মীরা আজ সুসময়ের কোকিলদের দাপটে কোণঠাসা। বিবৃতির শেষে আরমান হোসেন ফয়সাল দলের দূরদর্শী নেতা তারেক রহমানের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত না করলে দলের সুসংহত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। হাইব্রিড ও সুবিধাবাদীদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে অবিলম্বে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ছাত্রদল-যুবদলের নতুন কমিটি গঠন করে ত্যাগীদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews