
নিজস্ব প্রতিবেদক, এশিয়া বার্তা
সারা দেশে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে কঠোর অবস্থানে নেমেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশের ৪ হাজার চিহ্নিত চাঁদাবাজের তালিকা হালনাগাদ করে একটি সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই ‘সাঁড়াশি অভিযানে’ গত কয়েক দিনেই শত শত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগে গত রবিবার রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করে পুলিশ। যদিও মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সরকারের দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, এর মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। রেজাউল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার এক দিনেই ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৩ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার হোসেন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “কোনো চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি কেউ যদি অপরাধীকে ছাড়াতে তদবির করতে আসে, তবে তাকেও ওই চক্রের অংশ হিসেবে গণ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাবের এক গোপন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সারা দেশে অন্তত ৬৫০ জন চাঁদাবাজদের ‘গডফাদার’ রয়েছে। এদের অধিকাংশেরই রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন দ্রুত মামলা নিয়ে তদন্ত শেষ করা হয়।
তালিকায় ঢাকার মিরপুর এলাকার চাঁদাবাজির একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে প্রায় দেড় শতাধিক স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চালানো প্রায় ১,৭০০ দোকান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়। এই চক্রের সাথে জড়িত ৭২ জন সক্রিয় সদস্য এবং ২৫ জন আশ্রয়দাতার নামও তালিকায় স্থান পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এই যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে কোনো মূল্যে দেশকে চাঁদাবাজ মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সরকার।