
আব্দুল্লাহ আল মোমিন
পাবনা জেলায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কারসাজি এবং অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এক আপসহীন ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি। জেলাজুড়ে যেখানেই ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, সেখানেই এক ত্রাস হিসেবে হাজির হচ্ছেন এই কর্মকর্তা। তাঁর এই নিরলস ও কঠোর কর্মতৎপরতার কারণে জেলার অসাধু ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, ঠিক তেমনি সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের মনে ফিরে এসেছে এক বড় ভরসার নাম। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা এখন পাবনার প্রতিটি আনাচে-কানাচে।
পাবনা জেলার নয়টি উপজেলার কোথাও ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, মোড়কজাত পণ্যে ওজনে কম দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা-বাসি পণ্য বিক্রি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় কিংবা চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির ন্যূনতম অভিযোগ বা গোপন সংবাদ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সেখানে ফোর্স নিয়ে ছুটে যান সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি। শুধু জেলা শহরই নয়, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতেও তাঁর নিয়মিত ও আকস্মিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তিনি বাজার তদারকি, নিয়মিত ছদ্মবেশী অভিযান পরিচালনা এবং আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জরিমানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সিলগালা করছেন। তাঁর এই সক্রিয় ও চটজলদি ভূমিকার কারণে পাবনার সাধারণ মানুষ এখন যেকোনো বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই নিয়মিত অভিযানের আওতায় এসেছে জেলার বিভিন্ন নামী-দামী হোটেল, রেস্তোরাঁ, আধুনিক বেকারি, মিষ্টির কারখানা, পাইকারি কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কাপড়ের রঙ ব্যবহার এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
অভিযানকালে শুধু জরিমানাই নয়, বরং ব্যবসায়ীদের আইন মেনে সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা করার জন্য সচেতনতামূলক নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি। এর ফলে একদিকে যেমন অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইনের প্রতি ভয় ও সতর্কতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও বাজারে গিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন।
পাবনার সুশীল সমাজ এবং সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, একটি জেলার বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কোনো সহজ কাজ নয়। তবে মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সময়োপযোগী অভিযান বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় ভোক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ভেজাল ও সিন্ডিকেটবিরোধী এই কার্যক্রম যদি বছরজুড়ে এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে বাজারে কৃত্রিম মূল্যের ওঠানামা বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে নিরাপদ খাদ্য ও সঠিক ওজনের পণ্য ক্রয়ের শতভাগ সুযোগ পাবেন।
ভোক্তা অধিকারের এই লড়াই কেবল শহরের বড় বড় দোকানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিতেও। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের জারি করা একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের আলোকে পাবনার স্থানীয় কৃষকরা যেন নানাবিধ ক্ষেত্রে প্রতারিত না হন এবং তাদের উৎপাদিত ফসল বা কৃষি উপকরণ কেনাবেচায় অসাধু ফড়িয়া ও দালাল চক্রের দ্বারা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখছেন মাহমুদ হাসান রনি।
তিনি সরাসরি মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলছেন এবং সার, বীজ ও কীটনাশকের বাজারে কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন। এর ফলে প্রান্তিক চাষিদের মাঝেও এক ধরনের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, “আমি সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকারের দেওয়া এই পবিত্র দায়িত্ব পালনকালে যত ধরনের বাধাবিপত্তি বা প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, আমি আমার কর্তব্যের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা শুধু শহরের দোকানেই কাজ করছি না, কৃষি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলছে। কখনো মাঠে, আবার কখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘাটে গিয়ে আমরা তদারকি করছি।
তিনি আরও যোগ করেন, “সম্প্রতি জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের আলোকে কৃষকদের কাছ থেকে যেন কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা শোষণ না হয়, সে বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে নিশ্চিত করছি। আমাদের এই অভিযান ও আইনি তৎপরতা অব্যাহত থাকলে বাজারে অনিয়ম ও অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং একটি সুন্দর বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।” পাবনাবাসীকে নিরাপদ ও ন্যায্যমূল্যের বাজার উপহার দিতে এই লড়াইয়ে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।