রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

ঘাটাইলে বৃদ্ধা মহিলাকে নির্ম-মভাবে হ/ত্যার পর মৃতদেহের সাথে করে পূনরায় শারীরিক সম্পর্ক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

আঃহালিম আতিক টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমকে নির্ম-মভাবে হ/ত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪২) কে গ্রেফতার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

জানা যায়, স্বামীর মৃ/ত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন আনোয়ারা বেগম। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত তার খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত ভিকটিমের সঙ্গে তার ছেলে-মেয়েরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন। পরদিন সকাল থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি থানাতে অবহিত করা হয় এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়।

একপর্যায়ে ২৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ বিকেলে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের ভেতর থেকে অর্ধ-ন/গ্ন অবস্থায় আনোয়ারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। -মর্মান্তিক এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মাঝে শোক, আত/ঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। ঘটনার পর থেকেই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে ঘাটাইল থানা পুলিশ।

স্থানীয় তদন্ত, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোঃ সাইফুল ইসলামকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সাইফুল ঘটনার পর পর পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অবশেষে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এর দিকনির্দেশনায় এবং গোপালপুর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবীব খান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ ঘাটাইল থানা মোঃ মোকছেদুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিমের সদস্য এসআই মোঃ রাজু আহমেদ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই আমিনুল এবং কনস্টেবল ওয়াজেদ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ২২ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে থানা এলাকা হতে আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, গত ২৩/০৮/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে সে ভিকটিম আনোয়ারা বেগমের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিম তাকে গাছের ডাল কেটে দিতে বলেন। সে গাছের ডাল কাটার একপর্যায়ে ভিকটিমকে ঘরের ভিতরে কাপড় পরিবর্তনের সময় অর্ধ-ন/গ্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে কু-উদ্দেশ্যে গাছ থেকে নিচে নেমে আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে জোরপূর্বক ধ-র্ষ/ণ করে। পরে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধ-র্ষ/ণ করে এবং মৃ/ত্যু নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বালিশ চাপা দিয়ে হ/ত্যা করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে এবং ভিকটিমের কানের দুল খুলে নিয়ে যায়।

এরপর রাত গভীর হলে পুনরায় ঘটনাস্থলে এসে আনোয়ারার মৃ/তদেহের উপর থেকে ডাল পাল সরিয়ে ন/গ্ন অবস্থায় দেখে মৃ/ত আনোয়ারার সাথে পুনরায় শারিরীক সম্পর্ক করে। পরবর্তীতে মর/দেহ টেনে-হিঁচড়ে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড় সংলগ্ন পরিত্যক্ত কূপের মধ্যে ফেলে দেয়। মরদেহের উপর কাপড় ও জঙ্গল ফেলে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করে।

প্রাথমিক তদন্তে হ/ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ সংক্রান্ত পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews