রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

অসময়ে যমুনার পানি বৃদ্ধি: দিশেহারা ধুনটের কৃষক, তলিয়ে যাচ্ছে ফসল

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩২ বার পড়া হয়েছে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:

উজানের পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে চরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ধান, পেঁয়াজ, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসময়ে পানি বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন যমুনা পাড়ের কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরের বালুচরে গত কয়েক বছরে কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একসময় অনাবাদি থাকা এসব জমিতে এখন গম, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। নদীভাঙা মানুষরা কঠোর পরিশ্রমে এসব জমিকে চাষের আওতায় এনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন।

কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিচু জমিতে আবাদ করা ফসল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির কালো বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন, যাতে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

চরাঞ্চলের কৃষক আবু তালেব বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে ফসল আবাদ করছি। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে ক্ষতি সামাল দেব।

কৃষক সামচুল হক বলেন, চরের জমিই আমাদের একমাত্র ভরসা। পানি বাড়লে সব তলিয়ে যায়। প্রতি বছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

কৃষক শাহীন আলম বলেন, পেঁয়াজ ও বাদামের আবাদ করেছি। কিন্তু পানি বাড়তে থাকলে কিছুই ঘরে তুলতে পারব না—সব নষ্ট হয়ে যাবে।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ঋণ করে চাষ করেছি। এখন পানি বাড়ায় দুশ্চিন্তায় আছি—কীভাবে ঋণ শোধ করব বুঝতে পারছি না।

কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো জমি তলিয়ে যাবে। আমরা বড় বিপদে আছি।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে কৃষি বিভাগ।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক আশিক ধুনট, বগুড়া

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews