1. live@www.weeklyasiabarta.com : - : -
  2. info@www.weeklyasiabarta.com : - :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পলাশে মানববন্ধন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি আরটিভি ‘মার্কস অলরাউন্ডার’-এ আবৃত্তিতে প্রথম ওহীমনি: গর্বিত লৌহজংবাসী জ্বালানি পেতে সেচ পাম্প নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকের ভিড় বগুড়া সফরকালে গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা উৎসবমুখর জনসমুদ্রে রূপ নিল রাজপথ রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার পুকুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল নেতার উপর হামলা হেল্পফুল অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব, শ্রীমন্তপুরের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আমকুড়া আশরাফুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় বিদায়, সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে মধ্যরাতে ৬টি স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত ১ মাদারীপুরে সাত দিনব্যাপী চলছে বৈশাখী মেলা শ্রীনগরে রক্তের বন্ধনে বিক্রমপুর (RBB)-এর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

শ্রীপুরে বন কর্মকর্তাদের ‘ঘুষ-বাণিজ্য ১ লাখ টাকায় রফাদফা করে সচল থাকছে অবৈধ করাতকল!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন 
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
শ্রীপুরে বন কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ করাতকল | সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন 

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনের গাছ নিধনের মহোৎসবে এবার খোদ বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজাবাড়ী এলাকার অবৈধ করাতকল মালিকের দাবি, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই বনের ভেতর এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ঘুষের বিনিময়ে বনের সুরক্ষা বিসর্জন?
সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল (রবিবার) রাজাবাড়ী এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। করাতকল মালিক মো. মনির হোসেনের ভাষ্যমতে, ওইদিন রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মোহাম্মদ জুয়েল রানা এবং সূর্যনারায়ণপুর বিট কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযান চালানোর পরিবর্তে সেখানে দরকষাকষি শুরু হয়। মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান:
“ঘটনাস্থলেই রেঞ্জার জুয়েল রানাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়। এছাড়া তার সাথে থাকা বিট কর্মকর্তাদেরও আলাদাভাবে টাকা দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে ওইদিন এক লক্ষ টাকা দেওয়ার পর রেঞ্জার ও বিট কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যান।”

কর্মকর্তাদের বয়ানে গরমিল: ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ চেষ্টা?
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার বক্তব্যে অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, “গত রবিবারে আমি ঘটনাস্থলে যাইনি, আমাদের অন্য কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন।” টাকার লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে কোনো ভিডিও ফুটেজ আছে কিনা, তা নিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন তিনি। যদিও স-মিল মালিক নিজেই ক্যামেরার সামনে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, সূর্যনারায়ণপুর বিট কর্মকর্তার দাবি আরও বিচিত্র। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “রবিবার কোনো বিট কর্মকর্তাই রাজাবাড়ী এলাকায় যাননি।” প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বনের ভেতর কোনো ‘ভুতুড়ে’ অভিযান পরিচালিত হয়েছে? নাকি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আড়াল করতেই বিট কর্মকর্তা এই মিথ্যাচার করছেন?
২০০৮-এর আসামী যখন অপ্রতিরোধ্য
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মো. রহম আলী (পিতা: মৃত সায়েদ আলী)। ২০০৮ সালে বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা (নং ১৪৭/২০০৮) হলেও গত ১৮ বছরেও তার অবৈধ কর্মকাণ্ড থামেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মনির হোসেন ও রহম আলীদের মতো প্রভাবশালীরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোহারা ও তাৎক্ষণিক মোটা অংকের টাকা দিয়ে বনের গজারী গাছ উজাড় করছেন।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
প্রকাশ্য দিবালোকে ২-৩ গাড়ি গজারী গাছ কেটে এই স-মিলে চিরাই করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সরাসরি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, যেখানে বন রক্ষাকারীরাই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা রাখার আর কোনো জায়গা নেই।
আইনের তোয়াক্কা না করে এবং আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অবৈধ করাতকলগুলো কীভাবে টিকে আছে, তার জবাব এখন সময়ের দাবি। ঢাকা বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি টাকার বিনিময়ে শ্রীপুরের বন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট