
বিশেষ প্রতিবেদক,
গাজীপুর চৌরাস্তা-জয়দেবপুর রুটের রাজমনি আবাসিক হোটেলে পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) এসআই শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সিভিল পোশাকে পরিচালিত ওই অভিযানের পর তাদের কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই শামসুজ্জামান বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি প্রসিকিউশন মামলায় আদালতে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
১. মোঃ আকরাম হোসেন (৩৪) — ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
২. মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৫) — ১৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
৩. আব্দুল আজিজ (৩৮) — ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
৪. মোঃ আসাদুজ্জামান লিমন (২৭) — ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, চারজনের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ নেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী মোঃ আসাদুজ্জামান লিমনের অভিযোগ, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে ঘুম থেকে তুলে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দরজা বন্ধ করে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
লিমনের আরও অভিযোগ, মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তাকে এমন একটি বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয় যে তিনি আব্দুল আজিজকে দুই পিস ইয়াবা সরবরাহ করেছেন।
লিমনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, তিনি কাউকে ইয়াবা দেননি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার দাবি, অভিযোগ অস্বীকার করার পরও তাকে নির্যাতন করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
অভিযানের সময় এসআই শামসুজ্জামান পুলিশের নির্ধারিত ইউনিফর্মে ছিলেন না—এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি সিভিল পোশাকে অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সিভিল পোশাকে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অভিযানের সরকারি নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা দরকার।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অভিযানের সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রেপ্তার ও মামলা সংক্রান্ত নথি, জব্দ তালিকা, মোবাইল ফোনের ভিডিও, সংশ্লিষ্টদের কল রেকর্ড এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঘটনার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।