
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার ধামরাই থানায় মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এক বিশেষ মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও জনমুখী করার প্রত্যয় নিয়ে ধামরাই থানা কম্পাউন্ডে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন সাহেব। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এবং সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন ঢাকা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাবা শামীমা পারভীন শিল্পী। সভায় ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ধামরাই থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধগুলো গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হলে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি। পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, গতিশীল এবং জনসম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই একটি শান্তিময় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সমাজকে শান্তিময় রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে হলে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি স্থানীয় জনগণকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “আপনার এলাকায় কোনো অপরাধ ঘটলে বা অপরাধের সম্ভাবনা দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। সঠিক সময়ে তথ্য প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই আমরা ধামরাইকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাবা শামীমা পারভীন শিল্পী বলেন, “কমিউনিটি পুলিশিং কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বা সেমিনার নয়; এটি মূলত জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থা, নিবিড় সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের একটি কার্যকর ও টেকসই মাধ্যম। পুলিশ জনগণের শত্রু নয়, বরং বন্ধু ও সেবক। জনগণের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ধামরাইয়ের স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন সাধারণ মানুষ থানায় এসে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হয় এবং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামকে নিয়মিত কার্যকর রাখা হয়। ধামরাই থানা কম্পাউন্ডে আয়োজিত এই ধুমধাম সভায় উপস্থিত অতিথিরা সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ধামরাই থানার দক্ষ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান। তিনি থানার সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি এবং ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম। উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দল-মত নির্বিশেষে ধামরাইয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে এবং সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে পুলিশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সভার শেষ অংশে উন্মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার সমসাময়িক সমস্যা, বিশেষ করে রাতের আঁধারে মাদকের বিস্তার এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত নিয়ে কথা বলেন। পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মনোযোগ সহকারে সকলের বক্তব্য শোনেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
বক্তারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ধামরাইয়ের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে এবং ইভটিজিং, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও জনগণের যৌথ প্রয়াসই প্রধান হাতিয়ার। একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধামরাই থানার এই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আগামীতে আরও জোরদার করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘটে।