
উজ্জ্বল চন্দ্র মন্ডল, জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলাধীন বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির অভিযোগ। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তথ্য সংগ্রহে গেলে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চিত্রটি জনবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জন্য ভীতি ও ভোগান্তির স্থানে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসেন নিজেদের মন – মর্জি অনুযায়ী, মানেন না সরকারি অফিস সময়সূচী।
মিউটেশন (নামজারি), পর্চা উত্তোলন বা ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের প্রতিটি ধাপে সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। নির্দিষ্ট সময় পার হলেও অফিসে কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
ডিসি অফিসের নাম ব্যবহার,,,
অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা ডিসি অফিসের ছত্রছায়ার দাপট দেখান। তারা দাবি করেন, ওপর মহলের আশীর্বাদেই তারা চলছেন, তাই অভিযোগ করেও কোনো লাভ নেই।
সংবাদকর্মীকে হেনস্তা ও পরিবার নিয়ে কটুক্তি,,,,
আজ ১৩ মে ২০২৬ ইং তারিখ তথ্যের সন্ধানে গেলে এই প্রতিবেদককে সরাসরি বাধা প্রদান করা হয়। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অফিস টাইমে অনুপস্থিত থাকায় অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। দেলোয়ার হোসেন এক পর্যায়ে ১২ বছর ডিসি অফিসে কাজ করার ক্ষমতা উল্লেখ করে প্রশাসনিক ভয় দেখানোর চেষ্টা করে এবং আমাকে কাজ থেকে বিরত থাকার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মোবাইল বের করে কল দেয়ার ভঙ্গিতে বলে কোন এক সাংবাদিকের কথা উল্লেখ করে বলে নে তোর বাবারে কল দিচ্ছি। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালীন এমন কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করা একজন সরকারি কর্মচারীর চরম নৈতিকতার অবক্ষয় ও গুরুতর অপরাধের সামিল যা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, এই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। সাধারণ কৃষকরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শোষিত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে হয়রানি করা হয়। সরকারি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন অরাজকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এসব অসংগতি দূর করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।