রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

আদালতের স্থগিতাদেশের পরও প্রাচীর নির্মাণের তোড়জোড়, গ্রামজুড়ে উত্তেজনা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

আদালতের স্থগিতাদেশের পরও প্রাচীর নির্মাণের তোড়জোড়, গ্রামজুড়ে উত্তেজনা

দিলীপ কুমার দাশ, স্টাফ রিপোর্টার,সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি জায়গা সীমানার ভেতরে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির সড়কসংলগ্ন সরকারি পতিত জায়গা নিজেদের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের পানি নেওয়ার একটি নালা ভরাট করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ ঘটনায় আদালতে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের আদেশের পরও বিভিন্নভাবে কাজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।

জগন্নাথপুর উপজেলার ৭ নম্বর সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের আহমদাবাদ এলাকায় এলজিইডির সড়কসংলগ্ন সরকারি পতিত জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। ওই জায়গা সীমানার ভেতরে নিয়ে মোস্তফা মিয়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা মখলিছুর হোসেন বলেন, মোস্তফা মিয়া সীমানা প্রাচীরের ভেতরে সরকারি পতিত জায়গা ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই জায়গা আমরা গ্রামবাসী সবাই বিগত দিনে ভোগদখল করে আসছি। এখন তিনি একাই সেটি নিজের করে নিতে চাচ্ছেন। আরেক বাসিন্দা বলেন, ওই জায়গায় একটি নালা ছিল, যেটি ব্যবহার করে তাঁরা কৃষিজমিতে পানি নিতেন। কিন্তু নালাটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় জমিতে সেচের পানি পৌঁছাতে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গ্রামের বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, এখানে যে সীমানা প্রাচীর করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে করা হচ্ছে। এলজিইডির রাস্তা দিয়ে গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। রাস্তার পাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না রেখেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসী বা পঞ্চায়েতের কাউকেই জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত নালাসহ বিভিন্ন বিষয় সীমানা প্রাচীরের ভেতরে রেখেই প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে গ্রামবাসী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ করেছি। অভিযোগের পর আদালত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও গ্রামবাসীকে মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

গ্রামবাসীর দাবি, মোস্তফা মিয়া সরকারি জায়গা দখল না করে তাঁর নিজস্ব জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করুন। একই সঙ্গে কৃষিকাজে ব্যবহৃত নালাটি পুনরুদ্ধার করে কৃষকদের জমিতে সেচের পানি নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সরাসরি নির্মাণকাজ চালানো সম্ভব না হলেও বিভিন্নভাবে লোকজনের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ভাই কাঁচা মিয়া গ্রামবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোস্তফা মিয়া তাঁর জায়গাতেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। গ্রামবাসী তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে, এখন আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা তা গ্রহণ করব।

গ্রামবাসীকে মামলা-হামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন কাঁচা মিয়া। তিনি বলেন, মামলা-হামলা করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।”

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গার মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর রাখা, সড়কসংলগ্ন সরকারি জায়গা রক্ষা এবং কৃষকদের ব্যবহৃত নালা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি জায়গা, সড়কের সীমানা ও কৃষকদের সেচব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আহমদাবাদ এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তাই কাজ অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। এরপরও যদি কাজ করানো হয়, তাহলে গ্রামবাসী অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews