বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল চাড়ালপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।  বোমা তৈরিতে বিপত্তি, উড়ল ঘরের টিন ! অবশেষে আটক অণ্ডকোষ হারা মিজান চিকিৎসাধীন। সিরাজদিখানে ‘বোরহান-আনোয়ারা প্রবীণ নিবাস’ পরিদর্শনে ইউএনও রুম্পা ঘোষ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ আরসা সদস্য গ্রে প্তা র ছয় দফা দাবি আদায়ে লং মার্চ কক্সবাজার থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের পথে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী লীনা পারভীনের উঠান বৈঠক উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি সত্যের পক্ষে কলমঃ- সাংবাদিকের বন্ধু সত্য, শত্রুর তালিকা দীর্ঘ যাদবপুর ভুবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, অভিভাবক সমাবেশ

গাজীপুরের বাঘের বাজারে পরকীয়া নিয়ে তোলপাড়, ভিডিও ফাঁসের হুমকিতে ঘর ভাঙার উপক্রম

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে
বাঘের বাজার এলাকায় পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক তোলপাড়। ছবি:

বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর:

গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকায় পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি, ভিডিও এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় এক ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী এবং দুই সন্তানের জননী এক গার্মেন্টস কর্মী। এই অনৈতিক সম্পর্কের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকার ‘রিফাত ইলেকট্রনিক্স এন্ড ফার্নিচার’ নামক একটি দোকানের কর্মচারী মোঃ আরিয়ান (৩০) এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক মোছাঃ শিরিন আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক অনৈতিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছিল। শিরিন আক্তার বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও নিজের স্বামী, সন্তান ও সাজানো সংসার রেখে আরিয়ানের সাথে এই পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে এই অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন তারা। তবে সম্প্রতি বিষয়টি স্থানীয় প্রতিবেশীদের নজরে আসে। এর পরপরই তাদের কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে তথা ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বাঘের বাজার এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

মুঠোফোনে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়ানের বিস্ফোরক দাবি: এই ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল শুরু হলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানকালে অভিযুক্ত যুবক মোঃ আরিয়ানের সাথে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে (মোবাইলে) কথা হয়। ফোনে কথা বলার সময় আরিয়ান কোনো প্রকার অপরাধবোধ ছাড়াই অত্যন্ত বিস্ফোরক, আপত্তিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ দাবি করেন।

তিনি সাংবাদিকদের ফোনে ক্ষোভের সাথে বলেন, আমার মায়ের কসম, শিরিনের সাথে আমার সমস্ত গোপন মুহূর্তের ভিডিও আমার কাছে রেকর্ড করা রয়েছে। আমি তাকে কোনোভাবেই তার স্বামীর সংসার করতে দিব না। সে আমারই থাকবে। আরিয়ানের এমন প্রকাশ্য হুমকি, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা এবং পরকীয়ার দাবি এলাকার পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আরিয়ান কেবল একটি অনৈতিক সম্পর্কেই জড়াননি, বরং এখন সেই সম্পর্কের গোপন ভিডিওর ভয় দেখিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবারকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে সমাজকে কলুষিত করার পাঁয়তারা করছেন।

শিরিন আক্তারের মুঠোফোন বন্ধ ও রহস্যজনক আচরণ: এদিকে ঘটনার মূল সত্যতা ও আরিয়ানের এমন বিস্ফোরক দাবির বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নারী মোছাঃ শিরিন আক্তারের মুঠোফোনে (মোবাইলে) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই লাইনটি কেটে দেন। এরপর থেকে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। লোকলজ্জা, গণধোলাই ও আইনি ব্যবস্থার ভয়ে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন নাকি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার এমন রহস্যজনক আচরণ ও ফোন কেটে দেওয়াকে স্থানীয়রা পরকীয়ার সত্যতার পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন।

শিশুদের সামনেই অনৈতিক আচরণ, ক্ষুব্ধ সচেতন মহল: এই ঘটনার সবচেয়ে ভয়াবহ এবং উদ্বেগজনক দিক হলো, অবুঝ শিশুদের সামনেই এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রতিবেশী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শিরিন আক্তার নিজের ছোট ছোট সন্তানদের উপস্থিতিতেই আরিয়ানের সাথে আপত্তিকর ও অনৈতিক আচরণে লিপ্ত হতেন। একটি পরিবারের ভেতর নিজের আপন মায়ের এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ দেখে বেড়ে ওঠা শিশুরা ভবিষ্যতে কী শিখবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সামাজিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকার সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবল একটি পারিবারিক বিপর্যয়ই নয়, বরং এটি পুরো সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি বড় ও বিপজ্জনক সংকেত। শিশুদের মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা এবং মনস্তাত্ত্বিক গঠনের ওপর এই ধরণের দৃশ্য ও পারিবারিক পরিবেশ মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা তাদের অপরাধপ্রবণ করে তুলতে পারে।

সামাজিক অবক্ষয় ও এলাকাবাসীর তীব্র অসন্তোষ: বাঘের বাজার এলাকার স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, পরকীয়া সম্পর্ক এবং পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম অভাবের কারণে সমাজে এক ভয়াবহ অস্থিরতা গ্রাস করছে। পরকীয়ার মতো অনৈতিক সম্পর্কের জেরে বর্তমানে সমাজে শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, ডিভোর্স, খুন এবং আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দিন দিন জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, যারা সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে এমন নোংরা ও আপত্তিকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তারা সমাজের জন্য এক প্রকারের ক্ষতিকর ভাইরাস। এই ধরণের ব্ল্যাকমেইলার ও অনৈতিক ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া না হলে, সমাজে এই অবক্ষয়ের মহামারি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং আরও অনেক সুন্দর সুন্দর পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়বে।

তথ্য ও নথির সত্যতা: অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত এই নারী ও পুরুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বেশ কিছু অডিও রেকর্ড, ভিডিও ক্লিপ এবং মেসেঞ্জারে চ্যাটিংয়ের আপত্তিকর নথিপত্র ইতিমধ্যেই সংবাদকর্মীদের হাতে এসেছে। সেখানে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গভীরতা এবং অনৈতিক আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের দাবি: এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও সামাজিক শান্তি বিনষ্টের অভিযোগে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকায় যেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেদিকেও প্রশাসনের কঠোর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews