
এম এ মান্নান স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
নওগাঁ নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) গভীর রাতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন— মো. হাবিবুর রহমান (৩৪), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), তাদের ছেলে পারভেজ ইসলাম (১২) এবং আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাদিয়া রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজের জন্য উঠে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ঘরের সামনে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তিনি ঘরে ঢুকে খাটের ওপর চাদরে ঢাকা অবস্থায় পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাটি জানতে পারেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিবি, পিবিআই ও ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঘটনাস্থলের একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাড়ির মাটির দেয়ালে লেখা পাওয়া গেছে— “দলিল দে, নমির তুমি এ যাত্রায় বেঁচে গেছ”— যা হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ ইতোমধ্যে নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সবুজকে আটক করেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বসহ সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।