
নিউজ ডেক্স , এসে বার্তা
রাজশাহীর বাগমারায় আদালত থেকে জামিনে বের হওয়ার পর প্রতিপক্ষের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ বাগমারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোসলেম উদ্দীন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের কামারবাড়ী গ্রামে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোসলেম উদ্দীন মাছ চাষের জন্য নিজ গ্রামে একটি পুকুর লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ অবমুক্ত করেন। পুকুর লিজকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের নাজমুল হক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ওই বিরোধের জেরে কিছুদিন আগে নাজমুল হক ও তার লোকজন মোসলেম উদ্দীনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে জখম করে। এ ঘটনায় মোসলেম উদ্দীনের স্ত্রী বাদী হয়ে নাজমুল হকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান এবং পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
এরপর গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে মোসলেম উদ্দীনের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মোসলেম উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালিয়ে বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুকুর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল তারা। সর্বশেষ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে তাকে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে আছি। পুলিশও এসেছে। এটি নাশকতা নাকি অন্য কোনো বিষয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়—সেটাই আমরা চাই। অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্তে একজন উপপরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।