রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নকলায় অপরাধ দমনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের মতবিনিময় মিরসরাইয়ে ১৪ নং হাইতকান্দিতে নুরুল আমিন এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের পদ্মায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ৯ জেলে আটক ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন শান্তিগঞ্জের তৈয়বুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসলে দেখি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়াটা এখন একটা পুতুল খেলার মতো হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন ? এগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকলে আসেন, নয় তো দুরে থাকুন:—— সাভার মডেল থানাধীন পোড়াবাড়ি, বেদেপাড়া এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি আজ বিজয়ার দশমী: হোসেনপুরে শ্রী শ্রী কুলেশ্বরী বাড়ির দেবালয়ের ভক্তরা,অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাবেন মাকে। কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন, হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়

টেকনাফে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উদযাপিত: রোহিঙ্গাদের মানবিক ও প্রত্যাবাসন সংকটের ওপর গুরুত্বারোপ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি

কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং সিসিএনএফ (Cox’s Bazar Refugee Relief and Repatriation Commissioner)-এর যৌথ উদ্যোগে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের হলরুমে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব শরণার্থী দিবস উদযাপিত হয়েছে।

​উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি । জননেতা জনাব অ্যাডভোকেট মোঃ হাসান সিদ্দিকী।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমন: একটি ঐতিহাসিক

​অনুষ্ঠানে আলোচনায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাস এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েক দশক ধরে পদ্ধতিগত নিপীড়ন, সহিংসতা এবং নাগরিকত্ব হরণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন দফায় প্রবেশ করেছে:

​১৯৭৮ সালের আগমন (অপারেশন ড্রাগন কিং): মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর তীব্র নির্যাতনের মুখে ১৯৭৮ সালে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা প্রথমবারের মতো সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের বড় একটি অংশ ফিরে গেলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

​১৯৯১-১৯৯২ সালের অনুপ্রবেশ: নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মিয়ানমারে পুনরায় সামরিক জান্তার নির্যাতন শুরু হলে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

​২০১৬ সালের শেষের দিকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি অভিযানের পর কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

​২০১৭ সালের গণ-অনুপ্রবেশ (সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট): ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নারকীয় ও বর্বর গণহত্যার মুখে বাংলাদেশে ইতিহাসের বৃহত্তম শরণার্থীর ঢল নামে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন । বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে।

​অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা এবং বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট মোঃ হাসান সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব শরণার্থী দিবসের তাৎপর্য কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন
​মানবিক সহায়তার প্রশংসা: বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় জনগণ যেভাবে বছরের পর বছর ধরে এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় ও মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্ব দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
​নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন: বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘমেয়াদী শরণার্থী জীবন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।

​স্থানীয় জনগণের ওপর প্রভাব: টেকনাফ ও উখিয়ার স্থানীয় সাধারণ জনগণ রোহিঙ্গাদের কে আশ্রয় দিতে গিয়ে যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, সে বিষয়গুলো আলোচনা করে স্থানীয়দের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়
​সংকট নিরসনে কোস্ট ফাউন্ডেশন, সিসিএনএফ এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews