নিজস্ব প্রতিবেদক, এশিয়া বার্তা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৭ নং শাকুয়াই ইউনিয়নের ভাট্রা বারই পাড়া জমি চাষাবাদকে কেন্দ্র করে ফসল নষ্ট, হামলা ও দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের চাষ করা ফসল নষ্ট করা হয়েছে এবং পরে বাজার এলাকায় দুই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ভাট্রা বারইপাড়া মৌজার জমিকে কেন্দ্র করে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৮২ সালে ৯৯ বছরের মেয়াদে লিজ নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত কাগজপত্র রয়েছে। জমির দাগ নং হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২২৬ ও ১৮৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জমির সঠিক অবস্থান, দাগ নম্বর এবং লিজের শর্ত সংশ্লিষ্ট মূল নথি ও ভূমি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা সংশ্লিষ্ট জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বিভিন্ন সময় বাধার মুখে পড়েন। তাঁদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা হয়রানি ও মামলা-হামলার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি লোকজন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে তাঁদের আবাদ করা ফসল নষ্ট করেন। এ ঘটনায় মোঃ আনোয়ার হোসেন ও মোঃ হযরত আলী সহ আরো কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি,
ভুক্তভোগী পরিবারের আরো অভিযোগ, জমিতে ফসল নষ্ট করার ঘটনার পর বাজারে গিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই জন আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতমিক চিকিৎসা নেন, পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করা হয়েছে।
পরিবারটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত আসমত আলীর পরিবারের সদস্যদের নামে ১৯৮২ সালে ৯৯ বছরের জন্য জমি লিজ নেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি তাদের উপর হামলা করে মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ হযরত আলী, মোঃ মিজানু ও মোঃ হাবি মিয়ার নাম উঠে এসেছে, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে থাকা দলিল,লিজসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ভূমি উন্নয়ন করের রসিদের ছবি দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী পরিবার ৭নং শাকুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউনুস আলীর কাছে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
পরিবারটির অভিযোগ, নির্ধারিত দরবারের তারিখ অমান্য করে প্রতিপক্ষের লোকজন জমিতে প্রবেশ করে হামলা ও ফসল নষ্টের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউনুস আলী এশিয়া বার্তাকে জানান, তাঁরা দরবারের নির্ধারিত তারিখ অমান্য করে জমিতে প্রবেশ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ফসল নষ্টের অভিযোগ যাচাই এবং জমি নিয়ে বিরোধের আইনসম্মত সমাধানের দাবি জানিয়েছে।
এ ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে জমির মূল কাগজপত্র যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের আগে কোনো পক্ষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
এশিয়া বার্তার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, স্থানীয় প্রশাসনের মতামত এবং থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করে আসছে দ্বিতীয় প্রতিবেদন।