বাজেটের টাকা কোথায়’ প্রশ্ন জনতার
কালিয়াকৈরে শতকোটি টাকার ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার ভাগাড়
মোঃ খাইরুল ইসলাম উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সফিপুর বাজার ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর পৌরসভার ময়লা ফেলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ডাম্পিং স্টেশন। মহাসড়ক দখল করে দিনের পর দিন পচা ময়লার স্তূপ জমতে থাকায় চরম জনদুর্ভোগ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন হাজার হাজার পথচারী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারের নিচে কালিয়াকৈর পৌরসভার এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন-পৌরসভার বিশাল বাজেটের টাকা কোথায় যায়?
রোববার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সফিপুর ফ্লাইওভারের ঠিক নিচে তানহা হসপিটালের বিপরীত পাশে মহাসড়কের ওপরেই আবর্জনার স্তূপ গড়ে উঠেছে। সেখানে পচা শাকসবজি, ফলমূলের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পচা গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ১-২ মিনিটও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যেই ময়লার স্তূপের পাশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নোংরা পরিবেশে ঝালমুড়ি, চটপটি ও দই-মিষ্টির মতো খোলা খাবার বিক্রি হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে এই দুর্গন্ধের মাঝেই খাবার খাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইলগামী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অটোরিকশা এই ময়লার ভাগাড় ঘেঁষে চলাচল করায় সেখানে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে পৌরসভা ময়লা ফেলার জায়গা বানিয়েছে। দুর্গন্ধে দোকানে কাস্টমার আসে না। প্রশাসনকে বহুবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। শাহনাজ পারভীন নামে এক স্কুল শিক্ষিকা বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় নাক চেপে যেতে হয়। হাসপাতালের সামনে এমন নোংরা থাকলে রোগী সুস্থ হবে কীভাবে?
বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং ফ্লাইওভারের নিচে এভাবে ময়লা ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। আমি ইতিমধ্যেই পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে নতুন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, মহাসড়ক কোনো ময়লা ফেলার স্থান হতে পারে না। আমি আজই পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ময়লা অপসারণের জন্য নোটিশ দিচ্ছি। দ্রুতই এটি পরিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন মহাসড়কে ময়লা ফেলা না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, মহাসড়ক ও ফ্লাইওভারের নিচ থেকে অবিলম্বে এই ময়লার ভাগাড় সরিয়ে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনে স্থানান্তরের সুব্যবস্থা করতে হবে।