কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধন তথাপি দখল-দূষণে হুমকিতে শকুনি লেক - রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
উজ্জ্বল মন্ডল, মাদারীপুর।
মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী শকুনি লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে লেকের পাড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পানিদূষণ রোধ ও লেকের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানো হয়। পরে এসব দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান, চিকিৎসক গোলাম সারোয়ার, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ, এনায়েত হোসেন নান্নু, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ, বায়জিদ মিয়া ও জাহিদ হাসানসহ ১০টি সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে প্রমত্তা পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় মাদারীপুর মূল শহরের অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে। নতুন করে শহর স্থানান্তরের জন্য মাটির প্রয়োজনে ১৯৪২-৪৩ সালে এ লেক খনন করা হয়।
তৎকালীন জনমানবহীন এবং বনজঙ্গলে ভরা এই নিম্নভূমিতে নদীভাঙন কবলিত মহকুমা শহরের কোর্ট-কাছারি, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, থানা, জেলখানাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো স্থানান্তরের জন্য এই এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়। কারণ স্থাপনা তৈরিতে প্রচুর মাটির প্রয়োজন হওয়ায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের মাদারীপুর মহকুমা প্রশাসন মাটির চাহিদা পূরণ করতে এই লেকটি খনন করে।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মাদারীপুর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে লেকটির সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়। বর্তমানে লেকটি মাদারীপুরবাসীর কাছে হয়ে উঠেছে সৌন্দর্য আর বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু হকারদের দখল, অবৈধ স্থাপনা ও যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অব্যবস্থাপনার কারনে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ এবং দিন দিন দৃষ্টিনন্দন এই লেক হারিয়ে ফেলছে তার সৌন্দর্য।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শকুনি লেক মাদারীপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, পানিদূষণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লেকটির পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। লেকের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ এবং দূষণ বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কর্মসূচিতে জাহিদ হাসান বলেন, শকুনি লেক রক্ষায় শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। এ জন্য জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে লেকটির ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
এখন দেখার পালা ঐতিহ্যবাহী শকুনি লেকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কিনা !!!