বিশেষ প্রতিবেদক,
গাজীপুর চৌরাস্তা-জয়দেবপুর রুটের রাজমনি আবাসিক হোটেলে পুলিশি অভিযান নিয়ে বাসন থানার এসআই শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত ঘুষ ও নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। পুলিশের নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ বিরোধী আইনি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার ক্ষোভ এবং অপরাধ ঢাকতেই অভিযুক্তরা কর্মকর্তা ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই মিথ্যা রটিয়েছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
জিএমপি সূত্রের তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, রাজমনি আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদকের গোপন আসরের সংবাদের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই শামসুজ্জামান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাক্রমেই এই অভিযান চালান। সেখান থেকে হাতেনাতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী প্রসিকিউশন দাখিল করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের অপরাধ লুকাতে এবং পুলিশকে ব্ল্যাকমেইল করে আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পরবর্তীতে অর্থ দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের মনগড়া কাহিনী সাজায়। সিভিল পোশাকে অভিযান পরিচালনার বিষয়টিও নিয়মতান্ত্রিক ও গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে করা হয়েছিল, যার সম্পূর্ণ অনুমোদন ও লগবুক এন্ট্রি পুলিশের দাপ্তরিক নথিতে বজায় আছে।
ঘটনার পর হোটেলের ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আটককৃতদের আইনগত অধিকার রক্ষা করেই আদালতে পাঠানো হয়। আসাদুজ্জামান লিমনসহ অন্যদের যে নির্যাতনের দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। পুলিশি হাজতে বা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে কোনো ধরণের বেআইনি চাপ সৃষ্টি করা হয়নি।
এসআই শামসুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। রাজমনি আবাসিক হোটেলের ওই অভিযানে অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আসামিরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে পার পাওয়ার উদ্দেশ্যে ও পরবর্তীতে নিজেদের বাঁচাতে আমার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য দিয়ে সাংবাদিক ভাইদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত অর্থ দাবির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা ভিত্তি পাওয়া যায়নি। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ এনে আইনি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও আইনগত খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে।