ডেস্ক নিউজ:
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থিত একটি বিশাল সমুদ্রগর্ভস্থ তেলক্ষেত্রে পরিচালনাধীন একটি ব্রিটিশ-ইসরাইলি যৌথ তেল প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আর্জেন্টিনার একটি আদালত। ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দাবিকে জোরদার করা এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সর্বদক্ষিণের প্রদেশ 'তিয়েরা দেল ফুয়েগো'-র একটি স্থানীয় আদালত এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে ১৯৮২ সালের ঐতিহাসিক ফকল্যান্ড যুদ্ধে অংশ নেওয়া কয়েকজন সাবেক আর্জেন্টাইন সেনা এবং একদল পরিবেশবিষয়ক আইনজীবী যৌথভাবে আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিচারিক পর্যালোচনার পর আদালত প্রকল্পটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত দেন।
বিতর্কিত ‘সি লায়ন’ প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানি
যে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটির নাম ‘সি লায়ন’ (Sea Lion) তেলক্ষেত্র। এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে সাগরের বুকে অবস্থিত।
যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ: ব্রিটিশ খনিজ কোম্পানি ‘রকহপার এক্সপ্লোরেশন’ (Rockhopper Exploration) এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা।
ইসরাইলের অংশগ্রহণ: ইসরাইলি খনিজ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নাভিটাস পেট্রোলিয়াম’ (Navitas Petroleum) এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও যৌথ পরিচালনায় যুক্ত।
আর্জেন্টাইন পক্ষের দাবি, তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশের নিজস্ব আইনের অধীনে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় কোনো ধরণের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণ অবৈধ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই আদেশের বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত। কারণ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং তার আশপাশের সমুদ্রসীমা মূলত যুক্তরাজ্যের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনার কোনো আদালতের এখতিয়ার সেখানে কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব।
তবে ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপটির আইনি কার্যকারিতার চেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অজুহাতে বিতর্কিত ফকল্যান্ড এলাকায় যুক্তরাজ্যের একচেটিয়া প্রভাব তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা 'ইসলাস মালবিনাস' (Islas Malvinas) নামে ডাকে এবং এটিকে নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাতে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়। যুদ্ধ শেষ হলেও গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অধিকার ও সমুদ্রসম্পদ আহরণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।