বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার সোনাতলায় জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা ও দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ-এর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মহিদুল ইসলামকে সংবাদ সংগ্রহের অপরাধে রাতভর মারধর, দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক সাদা রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।গত সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক মোঃ মহিদুল ইসলাম। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর২০২৬ তাঁকে উদ্ধারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং আরও তিন লাখ টাকার জন্য তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।মহিদুল ইসলাম জানান, গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় পশু চিকিৎসক বাদল ডাক্তার তাঁকে একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের লাইন অবৈধভাবে ব্যবহারের তথ্য দেন। ওই তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সংযোগের ভিডিও ধারণ করছিলেন।এ সময় বাড়ির মালিকের ছেলে শাহাবুদ্দিন তাঁকে ভিডিও ধারণ করতে দেখে ভিডিও মুছে ফেলতে বলেন। তাঁদের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই বৈধ সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে সাংবাদিক মহিদুল ইসলাম ভিডিও মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।সাংবাদিকের অভিযোগ, এ সময় সেখানে থাকা সালজার মিস্ত্রি ও সবুজ তাঁকে ডাকাতি করতে এসেছেন বলে চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক আটক করে হাত-পা বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা তাঁদের নির্দেশ অনুযায়ী কথা না বললে তাঁকে বস্তাবন্দী করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ও নির্যাতনের মুখে তিনি তাঁদের কথামতো বক্তব্য দিতে বাধ্য হন। ওই বক্তব্যে তিনি সেখানে টাকা নিতে গিয়েছিলেন এবং কোনো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বলে বলতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন তিনি।পরবর্তীতে ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে প্রচার করা হয় এবং তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মহিদুল ইসলাম।পরিবারের কাছে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ সাংবাদিক মহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ১ সেপ্টেম্বর তাঁর পরিবারের কাছে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাঁকে উদ্ধারের জন্য তাঁর বড় ভাই ওয়েস কুরুনী ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ওই টাকা নেওয়ার পাশাপাশি আরও তিন লাখ টাকার জন্য তাঁর কাছ থেকে একটি সাদা রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।ঘটনার পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে তিনি চিকিৎসা নেন বলে জানান। পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং পেশাগত পরিচয় নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।মহিদুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি বিজ্ঞ জেলা আদালতে মামলা দায়ের করবেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।তাঁর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত, প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা,পরিবারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগের তদন্ত, ৪০ হাজার টাকা নেওয়া ও তিন লাখ টাকার জন্য সাদা রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ যাচাই এবং জোরপূর্বক বক্তব্য আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করা।এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে প্রচারের মাধ্যমে সম্মানহানির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।সাংবাদিক মহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর কাছে থাকা তথ্য, ভিডিও, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও এবং মামলার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁর প্রত্যাশা। সাংবাদিক সমাজের প্রতিও তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।সাংবাদিক মহিদুল ইসলামের ভাষ্য, “আমি ন্যায়বিচার চাই, প্রতিশোধ চাই না। আমি নিরাপত্তা চাই, কোনো অন্যায় সুবিধা চাই না।তবে অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই ও তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।