ঠাকুরগাঁওয়ে (ই এস ডি ও) প্রত্যাশা ক্রমে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুমোদন।
মোঃ ইসরাফিল আজাদ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।
ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি) প্রতিষ্ঠার সরকারি অনুমোদনের খবরে জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের মানুষ।
তাঁদের প্রত্যাশা, এই বিশ্ববিদ্যালয় ঠাকুরগাঁও কে উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান–প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করবে।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ উজ জামান
ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে একটি উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছেন।
সরকারি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তাঁর সেই স্বপ্ন আজ ঠাকুরগাঁওবাসীর সম্মিলিত অর্জনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন “ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে একটি উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমরা দীর্ঘদিন ধরে লালন করেছি। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থী শুধু সনদ নয়—জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মজীবনে সফল হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে বের হবে।”
এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি ও ঠাকুরগাঁওবাসী ।
ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে এই অনুমোদন শুধু একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি এ অঞ্চলের সন্তানদের ভবিষ্যতের প্রতি রাষ্ট্রের একটি বড় বিনিয়োগ। এতদিন উচ্চশিক্ষার জন্য দূরের শহরে যেতে হতো বহু শিক্ষার্থীকে। ভৌগোলিক দূরত্ব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতায় অনেকের স্বপ্ন থেমেও যেত। স্থানীয়ভাবে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলে সেই বাস্তবতা বদলাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রযুক্তিসহ কর্মবাজারে চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ডেটা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও যুগোপযোগী পাঠদান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থাকবে। যোগ্য শিক্ষক, আধুনিক গবেষণাগার, ডিজিটাল শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী সহায়তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্পখাত সংযোগের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশি, ক্যারিয়ার সেবা ও চাকরিতে প্রবেশের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্ভাবনাগার, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে তরুণদের চাকরিপ্রত্যাশীর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মেধাবী, নারী, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগও থাকবে।
ইইউএসটির মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশ, ডিজিটাল রূপান্তর, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্ভাবনে উত্তরাঞ্চলের বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় দক্ষ মানবসম্পদ, নতুন উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিতেও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এই অর্জনে প্রধানমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতায় ইইউএসটি হবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন, মেধা ও সম্ভাবনাকে বিশ্বমানের জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রাণকেন্দ্র।