আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় নারীর রহস্যজনক মৃত্যু,
তদন্তে সিবিআই
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি ঢাকা।
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া বটতলা এলাকায় মোছাঃ শিউলি বেগমের ভাড়া বাসা থেকে মোছা,মাহফুজা(৩৮) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে একই কক্ষে থাকা অপর নারী পলাতক রয়েছেন বলে জানা বাড়ীর অন্যান্য ভাড়াটিয়ার।
বাড়ীওয়ালা সুত্র জানায়,গত ১৯ তারিখ জামগড়া বটতলা এলাকায় মোছাঃ শিউলি বেগমের ভাড়া বাড়ীর একটি কক্ষ ভাড়া নেন দুই নারী। বাড়ীর মালিকের দাবী, ভাড়া দেওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে কোন পরিচয়পত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নেওয়া হয়নি।
স্হানীয়রা জানান, শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে ওই কক্ষ থেকে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজন বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে কক্ষে প্রবেশ করে মাহফুজাকে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান তারা।ডাকাডাকি ও নড়াচড়া করেও কোন সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্হলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আশুলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আজগর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এদিকে,স্হানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ভাড়াটিয়াদের বৈধ পরিচয় পত্র সংরক্ষণ ও বাড়ী ভাড়া নিতিমালা সঠিক ভাবে না মানায় মৃত ব্যক্তি ও অপরাধ চক্রের সদস্যদের শনাক্তে বিলম্ব হচ্ছে প্রশাসন, সংবাদ সংগ্রহে বিব্রত হচ্ছেন মিডিয়া কর্মীরা। এ বিষয়ে বাড়ীওয়ালা শিউলি দায় শিকার বলেন, বিষয়টি তার ভূল হয়েছে।
ঘটনার পর মাহফুজার সঙ্গে একই কক্ষে থাকা অপর নারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোন কারণে মৃত্যু—তা নিয়ে গভীর তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ ও সিবিআই বলেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক ওই নারীর অবস্হান শনাক্ত ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।