সাতক্ষীরা-১ আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ হাবিবের, তীব্র প্রতিবাদ জামায়াতের।
মোঃ আরিফুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি
কলারোয়া উপজেলা (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন পরাজিত বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। পাশাপাশি জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
০৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে একটি সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাবিবুল ইসলাম হাবিব এসব অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ভোট কেটে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহকে বিজয়ী করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার শিক্ষকদের এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি ব্যালট বাক্সে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাতের আঁধারে মুড়ি ও বাদামের প্যাকেটে লুকিয়ে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করারও অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা।
একই বক্তব্যে তিনি কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন।
হাবিবের এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে কলারোয়া উপজেলা জামায়াত। সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহা. কামারুজ্জামান বলেন, "সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ কেবল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা।" অধ্যক্ষ বিপুকে একজন ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যক্তিগত জবাব দিয়েছেন অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপু। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঘটনার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সেটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছিল না, বরং বিপদে পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেই আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণের সমালোচনা করে অধ্যক্ষ বিপু বলেন, "রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যেন মিথ্যাচার ও চরিত্রহননের পর্যায়ে না যায়।" গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানান এই নেতা।