আশুলিয়ায় পুলিশের সাথে "শুটার বাপ্পি'র গোলাগুলি " নারীকে জিম্মি করে চম্পট।
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি ঢাকা।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সাড়াশি অভিযানের মুখে এক নারীকে জিম্মি করে চম্পট দিয়েছে পুলিশের খাতায় চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী "শুটার বাপ্পি"। গেপ্তারের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে জিম্মি থাকা নারীর জীবন রক্ষার্থে পুলিশ সতর্ক অবস্হান নিলে কৌশলে সটকে পড়ে বাপ্পি।
শনিবার ২৫ জুলাই
আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন চৌধুরী প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে।
স্হানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জামগড়া শরীফ মার্কেটের ৫ম তলায় এক ব্যক্তিকে কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী জিম্মি করে রেখেছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌধুরী প্লাজায় একটি ভবনে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের বাঁচাতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।
একপর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জিম্মি নাটকের আশ্রয় নেয় বাপ্পি। ভবন থেকে পালানোর পথ সুগম করতে সে স্হানীয় এক নারীকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। জিম্মি নারীর চরম প্রাণহানির ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে চরম সংযম প্রদর্শন করে পুলিশ। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুপুর ১২টার দিকে সহযোগীদের নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে আশুলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, " শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পি ও তার সঙ্গীদের অবস্হানের তথ্যে আমরা জামগড়ার চৌধুরী প্লাজায় অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানের সময় বাপ্পি এক নারীকে জিম্মি করে ফেলে। আমরা যদি তখন কঠোর অ্যাকশনে যেতাম বা তাকে আটকের জন্য সরাসরি গুলি চালাতাম,তবে ওই সাধারণ নারীর জীবন বিপন্ন হতে পারত। শুধু তার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই আমরা সর্বোচ্চ সংযত ছিলাম।
তিনি আরও জানান,বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পালানোর সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা জবাব দেয়। শেষ পর্যন্ত নারীকে জিম্মি করেই সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে, ঢাকা জেলা পুলিশের (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম,অপস্ ও ট্রাফিক) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে না পারলেও পুরো এলাকা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় জামগড়া ও তার আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, তবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।