রামুর খুনিয়াপালংয়ে প্রবাসীকে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
মোহাম্মদ আরিফ
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের রামু উপজেলার মধ্যম খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমিরাকাটা এলাকায় চার মাস আগের একটি কথিত চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রবাসী জসিম উদ্দিনকে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরিবারের দাবি, গত ১৭ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে জসিম উদ্দিনকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তার মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দুপুরে সেই দাবি কমিয়ে ৬ লাখ টাকা এবং বিকেলে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় জসিম উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী জড়িত। তাদের দাবি, ঘটনার একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে অভিযুক্ত তারেক ও তার সহযোগীরা জসিম উদ্দিনকে রামু থানায় নিয়ে যান।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তারেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জসিম উদ্দিনকে চুরির অভিযোগে ধরে আনা হয়েছিল। তার দাবি, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।