প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ জুয়েল খানের, "ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের আশ্বাস "।
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি ঢাকা।
সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নেতা " জুয়েল খান "জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন—সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জুয়েল খানের ভাষ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন এবং দুই দফার কারাবরণ করেন। এছাড়া দীর্ঘ ১১ বছর নিজ জন্মস্থান হাতিয়ার বাইরে থাকতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসব ত্যাগের পরও তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো ছাত্রদলের পথ থেকে বঞ্চিত হন।সর্বশেষ গত ২ মে ঘোষিত ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তার নাম না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করলেও আশা করেছিলেন, দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিন তার অবদানের মূল্যায়ন করবেন।
জুয়েল খান জানান,সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে সম্প্রতি। তিনি বলেন,গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক জীবন, রাজপথের সংগ্রাম এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হতাশা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
সাক্ষাৎ শেষে জুয়েল খান দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, তিনি দলীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন, সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জুয়েল খান বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তার তৃণমূলের ত্যাগী,নিবেদিতপ্রাণ ও পরিশ্রমী কর্মীরা।
কঠিন সময়ে যারা আদর্শকে ধারণ করে রাজপথে অবিচল থাকেন, তাদের অবদানই সংগঠনের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।
তিনি আরও বলেন, "আমার দীর্ঘদিনের শ্রম,ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সাক্ষাতের সুযোগ দিয়েছেন। এটি শুধু আমার ব্যাক্তিগত সম্মান নয়,বরং তৃণমূলের সকল নিবেদিত কর্মীর জন্য একটি অনুপ্রেরণার বার্তা।
জুয়েল খান আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের ত্যাগী ও পরিশ্রম নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখবেন,তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সম্পৃক্ত রাখবেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার তাওফিক কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
একই সঙ্গে জীবনের এই স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।