মোহাম্মদ উজ্জ্বল খান, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা পুলিশের অভিভাবক পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব শামীমা পারভিনের কঠোর নির্দেশনায় জেলা জুড়ে জোরদার করা হয়েছে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান। এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর এলাকায় একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। উক্ত অভিযানে ৬০ (ষাট) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ মোস্তফা (৫০) নামের এক কুখ্যাত ও পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ডিবি পুলিশ। সোমবার (০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি.) ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে রোববার (০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি.) দিবাগত রাতে সাভারের হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব সাইদুল ইসলাম এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একটি চৌকস দল সাভার ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূলে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৫ জুলাই রাতে ডিবি পুলিশের কাছে একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে যে, সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তি অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে ওসির নির্দেশনায় ডিবি উত্তরের এসআই (নিঃ) মোঃ জুয়েল মিয়া সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ডিবি পুলিশের দলটি রাত আনুমানিক ২৩:০০ ঘটিকায় হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। মাদক কেনাবেচার সময় ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে অফিসার ও ফোর্সের যৌথ তৎপরতায় সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী মোস্তফাকে ঘেরাও করে আটক করা হয়। আটক করার পর ডিবির দক্ষ অফিসাররা স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আসামির দেহ তল্লাশি করেন। তল্লাশিকালে আসামির হেফাজত থেকে নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা ৬০ (ষাট) পিস নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ০৬ গ্রাম, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৮,০০০/- (আঠারো হাজার) টাকা। ডিবি পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে এবং আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে সাভার থানায় নিয়ে আসে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীর নাম মোঃ মোস্তফা (৫০)। সে সাভার মডেল থানার হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আঃ লতিফ এবং মাতার নাম জায়েদা খাতুন। স্থানীয় পর্যায়ে সে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা স্বীকার করেছে যে, সে সাভার, হেমায়েতপুর ও এর আশপাশের এলাকার যুবসমাজকে টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল। গোয়েন্দা পুলিশের রেকর্ডপত্র ও অপরাধের প্রোফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি মোস্তফার বিরুদ্ধে এর আগেও সংশ্লিষ্ট থানায় আরও ০১ টি মাদক মামলা রয়েছে। সে এলাকায় একজন চিহ্নিত ও পেশাদার মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। জামিনে বেরিয়ে সে পুনরায় এই অবৈধ কারবারে লিপ্ত হয়।
পেশাদার এই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (০৬ জুলাই) তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ডিবির পক্ষ থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে আসামির রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে, যাতে তার সাথে জড়িত অন্যান্য গডফাদার ও মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের তথ্য উদ্ঘাটন করা যায়।
ঢাকা জেলা ডিবির (উত্তর) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব সাইদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদকের মরণকামড় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন মহোদয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন। সাভারসহ ঢাকার উত্তর অঞ্চলের প্রতিটি এলাকা থেকে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ডিবির এই ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান নিয়মিত চলবে।
এদিকে হেমায়েতপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, নতুনপাড়া ও হেমায়েতপুর এলাকায় মাদক কারবারিদের কারণে উঠতি বয়সের ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ডিবি পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সফল অভিযানকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এই ধরনের অভিযান প্রতিনিয়ত চালু রাখার দাবি তুলেছেন।