আরমান হোসেন ফয়সাল লোহাগাড়ার প্রতিনিধি,
রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হলো জনসেবা। আর সেই জনসেবা যখন ধর্ম, বর্ণ বা জাত পাতের দেয়াল ভেঙে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সাথে মিশে যায়, তখন তা রূপ নেয় অনন্য এক মানবিক দৃষ্টান্তে। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ঠিক তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধার দীর্ঘদিনের আকুতি ও স্বপ্ন পূরণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটিয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম।
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মহিরা গ্রামের সনাতনী ধর্মাবলম্বী বৃদ্ধা হাদু মালেকা। বয়স নব্বইয়ের কোটা পার হয়েছে অনেক আগেই। শরীরের চামড়া কুঁচকে গেছে, দৃষ্টিশক্তিও আগের মতো প্রখর নয়, কিন্তু লাঠিতে ভর দিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ক্লান্তি নেই তার। এই দীর্ঘ জীবনে হাদু মালেকার একটিই ছোট্ট স্বপ্ন ছিল— তার জীর্ণ কুটিরে যাওয়ার একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি যেন একটু চলাচলের উপযোগী হয়। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই সরু পথটি দিয়ে চলতে গিয়ে বহুবার আছাড় খেয়েছেন এই বৃদ্ধা। কিন্তু দুঃখের এই পথটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আকুতি জানিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছিলেন না তিনি।
অবশেষে সেই কষ্টের অবসান ঘটল। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জননেতা আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম এমপি মহিরা এলাকা পরিদর্শনে যান। এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই লাঠিতে ভর দিয়ে এমপি মহোদয়ের সামনে হাজির হন বৃদ্ধা হাদু মালেকা। তিনি জননেতা এনামুল হক এনামের হাতটি পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন এবং নিজের বাড়ির জীর্ণ, কর্দমাক্ত রাস্তাটির দিকে ইশারা করেন। ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে তিনি আকুতি জানান, রাস্তাটি যেন একটু ঠিক করে দেওয়া হয়, যাতে মরার আগে শান্তিতে একটু হাঁটতে পারেন।
নব্বই বছরের এক বৃদ্ধার এই অবুঝ ও সরল আকুতি স্পর্শ করে এমপি এনামুল হক এনামের হৃদয়কে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধাকে বুকে টেনে নেন এবং মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, "মা, আপনি চিন্তা করবেন না। আমি আপনার এই কষ্টের রাস্তাটি পাকা করার ব্যবস্থা করব।" একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন তাৎক্ষণিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ আশ্বাস পেয়ে সেদিন আনন্দে অশ্রুসজল হয়ে পড়েছিলেন হাদু মালেকা।
রাজনীতিতে অনেক নেতাই প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু তা বাস্তবায়নের মুখ দেখে খুব কমই। তবে পটিয়ার বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম প্রমাণ করলেন, তিনি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী। বৃদ্ধা হাদু মালেকাকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি তিনি ভুলে যাননি। এলাকা পরিদর্শন শেষ করে এসেই তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেন রাস্তাটি সংস্কারের জন্য।
আলহামদুলিল্লাহ, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তিনি তাঁর সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় জরুরি ভিত্তিতে ৩ লক্ষ টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেন এমপি মহোদয়। এই বরাদ্দের মাধ্যমে বৃদ্ধা হাদু মালেকার বাড়ির সেই জীর্ণ ও দুর্গম রাস্তাটি সম্পূর্ণ আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করে পাকা করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যে পথ দিয়ে চলতে গিয়ে একসময় বৃদ্ধাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো, আজ সেই পথটি সম্পূর্ণ মসৃণ ও টেকসই আরসিসি ঢালাইয়ে রূপ নিয়েছে। ঘরের দুয়ারে এমন সুন্দর পাকা রাস্তা দেখে আনন্দে আত্মহারা বৃদ্ধা হাদু মালেকা। তিনি এখন নির্বিঘ্নে লাঠিতে ভর দিয়ে নিজের বাড়ির রাস্তায় হাঁটছেন। এই স্বপ্ন পূরণের পর বৃদ্ধা দুই হাত তুলে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের জন্য প্রাণভরে দোয়া ও আশীর্বাদ করছেন।
এই ঘটনাটি শুধু একটি রাস্তা পাকা করার গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজ ও সমকালীন রাজনীতিতে এক অনন্য মানবিকতার দলিল। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে জিরি ইউনিয়নের মহিরা গ্রামের একজন সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রান্তিক নারীর পাশে যেভাবে একজন মুসলিম জনপ্রতিনিধি এসে দাঁড়িয়েছেন, তা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। এটাই জনসেবার প্রকৃত রাজনীতি। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও দুর্ভোগের দিনে পাশে দাঁড়ানোই যে একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন পটিয়ার এই সাংসদ।
স্থানীয় জিরি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, এমপি এনামুল হক এনাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পটিয়ার আনাচে-কানাচে অবহেলিত জনপদগুলোর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বড় বড় মেগা প্রজেক্টের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘরের দুয়ারের ছোট ছোট দুঃখ-কষ্টের খবরও তিনি রাখছেন। একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধার সামান্য রাস্তার দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে তিনি বাস্তবায়ন করলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
মহিরা গ্রামের তরুণ সমাজ ও সচেতন মহল মনে করেন, এই মানবিক উদ্যোগের ফলে এলাকায় সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই যে একজন রাজপথের নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি, তা পটিয়াবাসী আজ অনুধাবন করতে পারছে। জনতার এমপি, জননেতা আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম এমপি তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা এবং এই অনন্য মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে আজ পটিয়ার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। হাদু মালেকার এই পাকা রাস্তাটি পটিয়ার রাজনীতিতে মানবিকতার এক চিরস্থায়ী স্মারক হয়ে থাকবে।