মোঃ ইসরাফিল আজাদ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের পল্লী অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে আবারও নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করেছে 'গড়েয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থা' (ফেডারেশন)। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একসময়ের জনপ্রিয় এই সংগঠনটি নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ফের তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি পল্লী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘ সময় কাজ করেছে। ২০১১ সালে সরকারি নিবন্ধন (নিবন্ধন নং: ঠাক-২৭৬/২০১১) লাভের পর এটি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত কার্যকর একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায়। আরডিআরএস বাংলাদেশের কোর কম্প্রিহেনসিভ কর্মসূচি এবং দাতা সংস্থা Brot für die Welt ও Evangelical Lutheran Church in America-এর সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হতো।
সংস্থাটির লক্ষ্য হলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সামাজিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা। বর্তমানে সংগঠনটিতে প্রায় ৪৫০ জন সদস্য রয়েছে, যারা ২৩টি দলের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ। এছাড়া যুব ফোরাম, নারী ফোরাম, কৃষি ফোরাম ও দুর্যোগ ফোরামসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংস্থাটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. ইসরাফিল আজাদ জানান, বিগত এক দশকে এই সংস্থাটির মাধ্যমে ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন এসেছিল। বিনামূল্যে গর্ভবতী মায়েদের চেকআপ ও ওষুধ বিতরণ, শিশু নিকেতন স্কুল পরিচালনা, অসহায়দের হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নাটক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্থাটি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। তবে বিগত সরকারের আমলে দেশ 'উন্নয়নশীল' হওয়ার ঘোষণায় দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান বন্ধ হয়ে গেলে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে সেসময়ের একটি অসাধু চক্র সংস্থার সম্পদ আত্মসাৎ করলে সংগঠনটি অকেজো হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রেজওয়ানুল ইসলাম রেদো শাহ-এর নেতৃত্বে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এবং আরডিআরএস বাংলাদেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। পুনরায় সংস্থাটি চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
এ বিষয়ে আরডিআরএস বাংলাদেশের সিডিএস মো. শশীউল ইসলাম বলেন, "সংস্থাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করছি। সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে এই অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সংস্থাটি পূর্বের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে গড়েয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থাটি কেবল অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নয়, বরং আধুনিক যুগের চাহিদা অনুযায়ী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সেবা এবং লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া আইনি সহায়তা প্রদান, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং লোকজ সংস্কৃতি চর্চায় সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। নতুন কমিটির হাত ধরে গড়েয়া সমাজ উন্নয়ন সংস্থা আবারো দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বনির্ভর সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
[contact-form][contact-field label="Name" type="name" required="true" /][contact-field label="Email" type="email" required="true" /][contact-field label="Website" type="url" /][contact-field label="Message" type="textarea" /][/contact-form]