মোঃ ইসরাফিল আজাদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ১ নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ এবং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আবদুল আলিম। রবিবার (০৮ জুন) সন্ধ্যায় পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে এই নোংরা প্রচারণার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও সংহতি প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১ নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে, ১ নং ভোমরাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সম্মানিত সভাপতি আবুল হোসেন এবং ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আবদুল আলিমের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে কুৎসা রটানো হচ্ছে। বিভিন্ন চটকদার ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে যে, বিএনপি নেতার অর্ধ শতাধিক সরকারি চালের বস্তাসহ ট্রাক আটকের ঘটনার সাথে আমরা জড়িত। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এই সংবাদের সাথে আমাদের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং এক পক্ষীয় কাল্পনিক কাহিনী।"
তিনি আরও বলেন, "এটি মূলত একটি স্থানীয় কুচক্রী মহলের কাজ। তারা নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য বা হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে জনমতকে আমাদের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করার জন্য এই সুপরিকল্পিত কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মাধ্যমে কোনো আংশিক সত্য বা সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের গড়া সামাজিক ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।"
প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ তাঁর বক্তব্যে অপপ্রচারের মূল কারণ উদঘাটন করে বলেন, "আমি ১ নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনকল্যাণে কাজ করে আসছি। সম্প্রতি আমি আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করতে চাই—এই খবরটি চাউর হওয়ার পর থেকেই আমার প্রতিপক্ষ ও স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলছুট মহল ইর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে। তারা মাঠে আমাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে এই ধরনের নোংরা ও ডিজিটাল অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।"
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আমার ভোমরাদহ ইউনিয়নের কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেনা যে আমি কোনো অন্যায়ের সাথে যুক্ত আছি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে এক কাপ চাও চেয়ে খেয়েছি। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ইউনিয়ন পরিষদের সকল প্রশাসনিক ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি।"
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাব দেন ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, "আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন অত্যন্ত ভদ্র, সজ্জন ও একজন সাদা মনের মানুষ। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাঁর মতো একজন নিষ্কলঙ্ক মানুষের ছবি এবং আমার ছবিসহ বিভিন্ন ভুয়া আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করা।"
ট্রাকভর্তি চাল আটকের ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরে ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, "যে ট্রাক ও চালের বস্তাসহ মালামাল আটক করার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ আমার বৈধ ব্যবসার মালামাল ছিল। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সততার সাথে চালের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আজ পর্যন্ত আমার পুরো ব্যবসায়িক জীবনে কেউ বলতে পারবে না যে আমি কোনো ধরনের অবৈধ বা সরকারি চাল চালানের সাথে জড়িত ছিলাম। আমার বৈধ ব্যবসাকে সরকারি চাল চুরির তকমা দিয়ে সাজানো নাটক সাজানো হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল আমাকে এবং আমার দলকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা।"
সংবাদ সম্মেলনে ১ নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের ৭ নং ইউপি ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) কেরামত আলী উপস্থিত থেকে এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ভাই অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। একই সাথে আমাদের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সাহেবও দিনরাত জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। এমন দুজন সম্মানিত মানুষের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা চাল চুরির নাটক সাজিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা সমাজের শত্রু। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর পেছনে জড়িত ডিজিটাল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাইবার অপরাধ ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা সাধারণ জনগণকে এই ধরনের সস্তা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।