নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: প্রকাশনা ও গৌরবের ২৫ বছর পূর্ণ করা দেশের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা’ পত্রিকার সুনাম, সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র মিথ্যাচার, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে মোঃ আব্দুর রহিম নামের এক বহিষ্কৃত সাময়িক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আব্দুর রহিম সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পত্রিকাটিতে সাময়িকভাবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারীদের হেনস্তা, জাল শিক্ষাগত সার্টিফিকেট প্রদান এবং স্বয়ং প্রধান সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে আইডি কার্ড বিক্রির মতো একাধিক গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরি হারিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং পত্রিকার সম্মানহানি করতে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অপপ্রচার শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তে মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। যার প্রেক্ষিতে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হওয়া মূল অভিযোগগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যাপক চাঁদাবাজি: কলারোয়া উপজেলার স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পত্রিকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি দেখিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করে আসছিল। এতে পত্রিকার দীর্ঘদিনের সুনামের ওপর চরম আঘাত আসে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী হেনস্তা: অভিযুক্ত আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্ন সাধারণ নারী ও তরুণীদের আপত্তিকর ও অশালীন বার্তা পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার সুনির্দিষ্ট ডায়েরি ও অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা একজন গণমাধ্যমকর্মীর নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ভুয়া ও জাল শিক্ষাগত সার্টিফিকেট প্রদান: এশিয়া বার্তা প্রতিষ্ঠানে কলারোয়া প্রতিনিধি হিসেবে অস্থায়ীভাবে যুক্ত হওয়ার সময় সে শিক্ষাগত যোগ্যতার যে সার্টিফিকেটগুলো জমা দিয়েছিল, তা পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভুয়া, জাল ও জালিয়াতিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়।
প্রধান সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল ও আইডি কার্ড বাণিজ্য: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও মারাত্মক অপরাধটি হলো, আব্দুর রহিম এশিয়া বার্তা পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের অফিশিয়াল স্বাক্ষর হুবহু নকল (জাল) করে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পত্রিকার ভুয়া আইডি কার্ড প্রদান করেছে। এই জালিয়াতির বিষয়টি অফিস কর্তৃপক্ষ বা সম্পাদনা পর্ষদ কোনোভাবেই অবগত ছিল না।
কপি-পেস্ট অপসাংবাদিকতা: একজন মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মী হিসেবে নিউজ লেখার ন্যূনতম পেশাদার যোগ্যতা, ব্যাকরণগত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা তার ছিল না। সে প্রতিনিয়ত অন্যান্য মূলধারার গণমাধ্যমের নিউজ হুবহু কপি (Copy-Paste) করে নিজের নামে অফিসে পাঠাতো, যা সাংবাদিকতা নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।
উপরোক্ত অনিয়ম ও অপরাধের পাহাড় জমে ওঠায় এবং জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় ‘জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা’ কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক নীতি, সততা ও আদর্শ অক্ষুণ্ন রাখতে মোঃ আব্দুর রহিমকে পদ থেকে স্থায়ীভাবে ও চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি প্রদান করে। এই আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি যথাযথ নিয়ম মেনে পত্রিকার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও নোটিশে প্রকাশ করা হয়।
কিন্তু চাকরিচ্যুত হওয়ার পর নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করার পরিবর্তে উল্টো বেপরোয়া হয়ে ওঠে আব্দুর রহিম। সে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে ‘জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা’ পত্রিকার নামে লাগাতার চরম মিথ্যা, আপত্তিকর, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পোস্ট করে আসছে। শুধু তাই নয়, পত্রিকার অফিশিয়াল পেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের কমেন্ট বক্সে গিয়েও সে চরম নোংরা ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করছে, যা একটি ঐতিহ্যবাহী জাতীয় পত্রিকার মানহানি এবং গণমাধ্যম আইনের চরম লঙ্ঘন। একই সাথে সে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নানা প্রকার হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছে।
এশিয়া বার্তা পত্রিকা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অপসাংবাদিকতা, জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কখনো ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। মোঃ আব্দুর রহিমের এই অবিরত অপপ্রচার, প্রধান সম্পাদকের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক হুমকির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির আইন উপদেষ্টাদের পরামর্শে দেশের প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে (Cyber Security Act) তার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা’র দেশ-বিদেশের কোটি পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, এজেন্ট এবং বিজ্ঞাপনদাতাসহ সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো যে, আপনারা কেউ এই বহিষ্কৃত ও প্রতারক মোঃ আব্দুর রহিমের কোনো প্রকার ফাঁদে পা দেবেন না। তার কোনো বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো। এখন থেকে তার কোনো ব্যক্তিগত অপকর্ম, আর্থিক লেনদেন বা কোনো প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার এশিয়া বার্তা বা এর সহযোগী কোনো কর্তৃপক্ষ বহন করবে না। তার সাথে কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ না রাখার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হলো।