ফিরোজ কবির, উপজেলা প্রতিনিধি
তৃণমূল রাজনীতির চারণভূমি ও উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বইতে শুরু করেছে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার প্রতিটি আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—কে হচ্ছেন আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি। এই নির্বাচনী আবহাওয়ার মধ্যেই উপজেলার ৯নং ছাপড়হাটী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও তরুণ প্রজন্মের প্রিয়মুখ মোঃ আমিনুল ইসলাম। তাঁর এই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় পুরো ইউনিয়ন জুড়ে সাধারণ ভোটার ও যুবসমাজের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ভোটার এবং বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, মোঃ আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে ছাপড়হাটী ইউনিয়নের নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে করোনাকালীন সংকট, শীতের তীব্রতায় অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ চালানো এবং কর্মহীন যুবকদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে তিনি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার যুবসমাজকে মাদক, জুয়া ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে তিনি নিয়মিত ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও টুর্নামেন্টের আয়োজন করে আসছেন, যা তাকে তরুণ ভোটারদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ছাপড়হাটী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ মেম্বার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "দলমত নির্বিশেষে আমিনুল ইসলাম আমাদের এলাকায় একজন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য, সৎ ও মার্জিত ব্যক্তি। তিনি শুধু নির্বাচনের জন্য মাঠে নামেননি, বরং বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছেন। সাধারণ মানুষের বিপদে রাত-বিরাতে ছুটে যাওয়ার এক অনন্য গুণ রয়েছে তাঁর মাঝে। আমরা ইউনিয়নবাসী এবার তাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, তাঁর সুদূরপ্রসারী ও আধুনিক চিন্তাভাবনার নেতৃত্বে অবহেলিত ৯নং ছাপড়হাটী ইউনিয়ন একটি মডেল, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ ইউনিয়নে রূপান্তরিত হবে।"
নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগকালে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আমিনুল ইসলাম তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "মানুষ মানুষের জন্য—এই নীতি বিশ্বাস করেই আমি বড় হয়েছি। আমার কোনো রাজনৈতিক লোভ বা অহংকার নেই। সাধারণ মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ, সার্থকতা ও দায়িত্ব বলে মনে করি। দীর্ঘ দিন ধরে আমি যেভাবে পেরেছি এলাকার মানুষের সেবা করেছি। এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বড় পরিসরে মানুষের সেবা করার জন্য এবং ছাপড়হাটী ইউনিয়নকে বৈষম্যহীন হিসেবে গড়ে তুলতে আমি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এলাকার মুরুব্বি, মা-বোন এবং বিশেষ করে যুবসমাজের ভালোবাসা, আস্থা ও অনুপ্রেরণাই আমাকে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি জোগাচ্ছে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এই ইউনিয়নকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত এবং ডিজিটাল সেবা সমৃদ্ধ একটি আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। কোনো সাধারণ মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম কাজ। আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ছাপড়হাটী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, আন্তরিক সহযোগিতা ও মূল্যবান সমর্থন কামনা করছি।
আমিনুল ইসলামের প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ছাপড়হাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার যেমন—ছাপড়হাটী বাজার, খামার বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, একজন শিক্ষিত, ব্যবসায়ী ও দানশীল ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে এলে ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে তাঁর সমর্থনে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ছাপড়হাটী ইউনিয়নে মোঃ আমিনুল ইসলাম এক শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।